?> গাছের ইন্ডাস্ট্রিজ | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

দেশের আশি ভাগ কৃষি যন্ত্রাংশের জোগান দিচ্ছে বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের আশি ভাগ কৃষি যন্ত্রাংশের জোগান দিচ্ছে বগুড়ার ফাউন্ড্রি শিল্প

দেশের মোট কৃষি যন্ত্রাংশের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করছে বগুড়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানা। স্থান সংকট সত্ত্বেও জাহাজ ভাঙা লোহা গলিয়ে এই অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের কৃষিপণ্য। উদ্যোক্তাদের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয়ভাবে বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতে কাজ করছেন ত্রিশ হাজারের বেশি শ্রমিক।

স্বাধীনতার আগে থেকেই শহরটির ফুলবাড়ি ও কাটনারপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরির কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিসিক শিল্পনগরীর নির্ধারিত প্লটের সীমা পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। বর্তমানে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত সেচ পাম্প, পাওয়ারটিলার, টিউবওয়েল এবং ধান কাটার মেশিনের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পার্টস তৈরি হচ্ছে এখানে। ফিনিশিংয়ের কাজের জন্য এই অঞ্চলে প্রায় এক হাজার লেদমেশিন কারখানা রয়েছে।

বগুড়া বিসিকের মিল্টন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজার রহমান মিল্টন জানান, আশির দশকে ব্যক্তি উদ্যোগে এই অঞ্চলে প্রথম ফাউন্ড্রি শিল্পকারখানা গড়ে ওঠে। উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ঢালাইনির্ভর প্রায় একশ শিল্পকারখানা থাকলেও এর মধ্যে বগুড়ার ২৭ কারখানায় অধিকাংশ যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। বর্তমানে লোহা গলিয়ে প্রায় ১৬ ধরনের উন্নত মানের যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বগুড়া মোটরসের তৈরি কিছু ফিল্টার ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে ফাইলবন্দি থাকা বগুড়ার বিসিক শিল্পপার্ক প্রকল্পটি সম্প্রতি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আগামী শীতে এই শিল্পপার্কের কাজ শুরু হতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই শিল্পপার্ক নির্মিত হলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।


পেঁয়াজ সংরক্ষণ এয়ারফ্লো মেশিনে জালিয়াতি ও বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

পেঁয়াজ সংরক্ষণ এয়ারফ্লো মেশিনে জালিয়াতি ও বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ

কৃষকদের পেঁয়াজ পচনের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিতরণ করা এয়ারফ্লো মেশিনের কার্যক্রমে বড় ধরনের কারিগরি অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমে নির্ধারিত ক্ষমতার পরিবর্তে নিম্নমানের মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াটের শক্তি সাশ্রয়ী মোটর দেওয়ার কথা থাকলেও মাঠে সরবরাহ করা হয়েছে ৪০০ থেকে ৭৪৬ ওয়াটের অননুমোদিত লোকাল মোটর। এর ফলে কৃষকদের পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার বদলে ভোগান্তি অনেকখানি বেড়ে গেছে। সঠিক মাত্রায় আলো ও বাতাস সঞ্চালিত না হওয়ায় ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত পেঁয়াজ পচে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি এই প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই নিম্নমানের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজারের বেশি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রায় তিন হাজার মেশিন দেওয়া হয়েছে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য পরিচিত রাজবাড়ী জেলায়। এ ছাড়া নাটোর, ফরিদপুর, পাবনার সুজানগর, মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জেও এসব মেশিন পাঠানো হয়। জিএসএম ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি স্বীকৃত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাইফুল আলম জানান, ২১ হাজার টাকা বরাদ্দের এই মেশিনের জন্য শুরুতে ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াটের মোটর ব্যবহারের কথা থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭৪৬ ওয়াট সরবরাহের চাপ দেওয়া হয়। এতে নিজের প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তিনি কাজটি থেকে সরে দাঁড়ান বলে জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদর্শ মেশিনের পাইকারি খরচ ১৭ হাজার টাকা হলেও ঠিকাদার ও কর্মকর্তারা মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার লোকাল মোটর দিয়ে নামমাত্র মূল্যে এসব মানহীন মেশিন তৈরি করেছেন। এসব প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল মেশিনারিজ টিউন বা নিবন্ধিত কোনো সমিতির বৈধ ঘোষণাও ছিল না। কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মান যাচাই ছাড়াই মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এসব মেশিন বিতরণ দেখানো হয়েছে। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, নাটোর ও পাবনার স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি অফিসারদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশেই এই দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই কারিগরি জালিয়াতির কারণে সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক ও সাধারণ কৃষকরা। অফিশিয়াল স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ৩০০ ওয়াটের মেশিন চললে মাসে চার থেকে পাঁচশ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসার কথা ছিল। কিন্তু ৭৪৬ ওয়াটের উচ্চক্ষমতার ও নিম্নমানের মোটর ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের লাইন স্ল্যাব অতিক্রম করে বিল গিয়ে ঠেকেছে ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। এর ফলে পচনের হাত থেকে পেঁয়াজ বাঁচাতে গিয়ে কৃষকদের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকারের সুদূরপ্রসারী সৌরবিদ্যুৎ বা সোলারাইজেশন পরিকল্পনাও এখন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। ৩০০ ওয়াটের মেশিনের ক্ষেত্রে ডিসি প্যানেল ও ইনভার্টার মিলিয়ে কম খরচে সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর সম্ভব হলেও ৭৪৬ ওয়াটের মেশিনের ক্ষেত্রে খরচ দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের বোঝা বহন করা সাধারণ কৃষক কিংবা সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উদ্ভূত এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান দাবি করেছেন যে তাদের প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সংঘটিত হয়নি। তিনি জানান, কৃষি প্রণোদনার আওতায় শুরুর দিকে স্পেসিফিকেশন ৩০০ থেকে ৩৫০ ওয়াট থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ৪০০ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৭৪৬ ওয়াট পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেশি হলেও এর মাধ্যমে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজ নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারছেন বলে তিনি দাবি করেন। সরকারের পক্ষ থেকেও এই প্রযুক্তিকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও আট হাজার এয়ারফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অধীনে এ সংক্রান্ত একটি নতুন প্রকল্পও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনাধীন ছিল। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাবে এবং অনিয়মের কারণে উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নের পরিবর্তে এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আব্বাসী যুগে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আব্বাসী যুগে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন

ইতিহাসের আব্বাসী খেলাফত যুগে উমাইয়া আমলের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে এবং প্রধান শহরগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সে সময় ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফোরাত নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ও শাখা খালের মাধ্যমে তা বহুদূর ছড়িয়ে দিতে একাধিক বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম সাহারার উত্তরাঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ প্রদান ও চাষাবাদ করা সম্ভব হয়েছিল।

রাজধানী বাগদাদ ও এর আশপাশের অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য একাধিক বাঁধ ও খালের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। দজলা নদী থেকে নাহরাওয়ান খাল ব্যবস্থার সংযোগ ঘটিয়ে কৃত্রিম পানিপ্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়া দামেস্ক ও সামাররার মতো অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ খাল এবং জলচক্র বা নরিয়ার সাহায্যে পানি সংগ্রহ করে তা বাগান ও পুকুরে পৌঁছানো হতো। রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি বণ্টনের পরিমাণ নির্ধারণে অনুপাত ও পাটিগণিতের প্রয়োগ করা হতো এবং তা কঠোরভাবে তদারক করা হতো।

কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খলিফারা উদ্ভিদের ধরন ও মাটির উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং কৃষকদের করের হার কমিয়ে দেন। ব্যাবিলন, শাম ও মিসরের প্রাচীন কৃষি পদ্ধতি এবং গ্রিক উদ্ভিদবিদ্যার গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদের মাধ্যমে কৃষিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কৌশল প্রয়োগ করা হয়। ভারত থেকে আখ এনে তা বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়াও কফিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলা হয়েছিল। আন্দালুসিয়া ও সিসিলির মতো অঞ্চলে তুলা, আখ ও বিভিন্ন ফলমূলের চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছিল।

মুসলিম শাসনামলে আন্দালুসে বা স্পেনে কৃষি ও সেচব্যবস্থার সবচেয়ে সুসংগঠিত রূপ দেখা যায় এবং রোমান আমলের রুক্ষ ভূমি উর্বর কৃষিভূমিতে রূপান্তরিত হয়। সাকিয়া ও নোরিয়ার মতো পানি উত্তোলন যন্ত্র এবং সমবায়ভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার মাধ্যমে পানি ও মাটির উর্বরতা সর্বোচ্চ দক্ষতায় ব্যবহৃত হতো। পানি ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, এ বিষয়ে তদারকি ও পরিচালনার জন্য প্রশাসন আলাদা একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিল। এই উন্নত সেচ ও কৃষি ব্যবস্থার ফলে সে সময় বিশাল খাদ্য উৎপাদন ও বাণিজ্যের পথ সুগম হয়েছিল।