?> কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারে এই ‘মিথ্যা কলা’ গাছ | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারে এই ‘মিথ্যা কলা’ গাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোটি মানুষের খাদ্য জোগাতে পারে এই ‘মিথ্যা কলা’ গাছ

বর্তমান বিশ্বে মানুষের দৈনন্দিন ক্যালরির চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয় ধান, গম এবং ভুট্টার ওপর নির্ভর করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র খরা ও নানা ধরনের রোগবালাইয়ের কারণে প্রধান এই খাদ্যশস্যগুলো প্রতিনিয়ত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতায় গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এমন কিছু বিকল্প ও কম পরিচিত উদ্ভিদের সন্ধান করছেন, যা আগামীদিনের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় উৎপাদিত এনসেট নামক বিশেষ উদ্ভিদটি বর্তমানে বৈশ্বিক গবেষকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। এটিকে অনেকেই ক্ষুধা নিবারণকারী অলৌকিক ফসল কিংবা মিথ্যে কলা হিসেবেও অভিহিত করে থাকেন।

ظاهری দিক দিয়ে গাছটি দেখতে অনেকটা সাধারণ কলাগাছের মতো হলেও এটি মূলত এক ধরনের বিশাল আকৃতির ভেষজ উদ্ভিদ। বুনো প্রজাতির এই উদ্ভিদ আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিলেও খাদ্য হিসেবে এর চাষাবাদ প্রধানত ইথিওপিয়ার পার্বত্য অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের কিউ গার্ডেনের সংরক্ষণ জীববিজ্ঞানী জেমস বোরেলসহ একদল গবেষক এই উদ্ভিদের অসাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, উদ্ভিদটির চরম আবহাওয়া সহ্য করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে এবং এটি বহুবর্ষজীবী হওয়ায় প্রতিবছর নতুন করে বীজ বপনের ঝামেলা পোহাতে হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ষাটটি এনসেট গাছ একটি পাঁচ সদস্যের পরিবারের এক বছরের খাদ্য চাহিদা অনায়াসেই মেটাতে সক্ষম। এই উদ্ভিদটির কাণ্ড ও মাটির নিচের অংশ প্রক্রিয়াজাত করে ইথিওপিয়ায় কোচো ও বুল্লার মতো বেশ কিছু জনপ্রিয় খাবার তৈরি করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, সাব-সাহারান আফ্রিকার উপযুক্ত পরিবেশে এই উদ্ভিদের চাষ ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে প্রায় এগারো কোটি মানুষের বাড়তি খাদ্যের জোগান দেওয়া যেতে পারে। তবে দেখতে কলার মতো হলেও এর ভেতরের অংশ খাওয়ার উপযোগী নয় এবং ফলগুলো শক্ত কালো বীজে পরিপূর্ণ থাকে।

এতসব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ইথিওপিয়ার বাইরে এই ফসলের ব্যাপক বিস্তার না ঘটার পেছনে বেশ কিছু বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। দেশটির কঠোর জিনগত সম্পদ সংরক্ষণ নীতি এবং উদ্ভিদ রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি বিধিনিষেধ এর বড় কারণ। এছাড়া ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং এর জন্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অর্জিত বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি শহরায়ণ ও বাণিজ্যিক ফসলের জনপ্রিয়তার কারণে খোদ ইথিওপিয়াতেই এই উদ্ভিদের চাষের পরিধি কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক খাদ্যঝুঁকি এড়াতে গুটিকয়েক প্রধান ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এনসেটের মতো অবহেলিত উদ্ভিদগুলোকে যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা গেলে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থায় এক অনন্য বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। সামান্য অনুকূল পরিবেশ এবং সচেতনতা পেলে এই অলৌকিক উদ্ভিদটি একদিন মানবজাতির ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল হয়ে উঠতে পারে।

২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৬ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে মরুভূমিকে ৫০ হাজার গাছের বনে পরিণত করলেন এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রোনাল্ড সাকলস্কির দেওয়া সামান্য আর্থিক সহায়তায় চীনের এক নারী কৃষক ২৬ বছরের দীর্ঘ পরিশ্রমে মরুভূমিকে বিশাল সবুজ বনে রূপান্তর করেছেন। ১৯৯৯ সালে চীনের হেনান প্রদেশে ইংরেজি শেখানোর সময় সাকলস্কি টেলিভিশনে ইননার মঙ্গোলিয়ার মু উস মরুভূমিতে ইয়িন ইউঝেন নামের ওই নারীর বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ দেখতে পান। মূলত নতুন বিবাহিত জীবনে মরুভূমির চরম একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতেই ইয়িন নিজ উদ্যোগে গাছ লাগানোর কঠিন কাজটি শুরু করেছিলেন।

সেই সময় ইয়িনের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসিকতার গল্পে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে সাকলস্কি প্রায় ৫ হাজার ডলার সংগ্রহ করে তাকে পাঠান, যা ছিল ওই নারীর তৎকালীন বার্ষিক আয়ের কয়েক গুণেরও বেশি। ২০০০ সালে এই দুই পরোপকারী মানুষের প্রথম সাক্ষাতের সময় ইয়িন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ও তার পরিবার পরম যত্নে এই গাছগুলো লালন-পালন করবেন। সম্প্রতি ৬৯ বছর বয়সী সাকলস্কি ২৬ বছর দীর্ঘ ব্যবধানের পর প্রথমবারের মতো সশরীরে সেই এলাকা পরিদর্শনে যান।

সেখানে গিয়ে আমেরিকান এই শিক্ষক দেখতে পান যে একসময়ের রুক্ষ ও বিস্তীর্ণ মরুভূমি প্রায় ৫০ হাজার পূর্ণবয়স্ক গাছের এক সমৃদ্ধ বনে পরিণত হয়েছে, যার অনেকগুলো গাছের উচ্চতা এখন ৩০ ফুটেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। নিজের চোখে মরুভূমির এই রূপান্তর দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি একে জীবনের অন্যতম বড় বিস্ময় বলে অভিহিত করেন। এর আগে তিনি ছবি ও বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বনের কথা জানলেও স্বচক্ষে দেখার পর এই অভাবনীয় পরিবর্তনের আসল সত্যতা অনুধাবন করতে পেরেছেন।

চলতি বছরের শুরুতে ইয়িন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা চালিয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত সাকলস্কির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং তাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান। এরপর ১০ দিনের সফরে চীনে গিয়ে সাকলস্কি বনের মধ্যে ইয়িনের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনে অংশ নেন এবং তারা সেখানে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে একটি বন্ধুত্বের গাছ রোপণ করেন। সফরকালে ইয়িন তাকে একটি বিশেষ ক্রস-স্টিচ উপহার দেওয়ার পাশাপাশি সাকলস্কি নিজের স্মৃতির জন্য ওই এলাকার এক বয়াম বালু সঙ্গে নিয়ে যান।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জনগণের বন্ধুত্বের এই অনন্য উদাহরণটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটির সরকারি মহল। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যক্তির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইয়িন ইউঝেন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান যে তিনি নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন এবং তাদের এই বন্ধুত্বের গাছ আগামী ২৬ বছর পরও একইভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।


পাকিস্তানে জোট সরকার গড়তে কৌশলী নওয়াজ ও জারদারির দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পাকিস্তানে জোট সরকার গড়তে কৌশলী নওয়াজ ও জারদারির দল

বার্তাবেলা ডেস্ক: পাকিস্তানে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে জোট সরকার গঠনই একমাত্র পথ বলে মনে করা হচ্ছে। 

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ১০১টি আসনে। তাঁদের প্রায় সবাই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ইমরান খানের সমর্থিত। তবে নির্বাচনের মাঠে পিটিআই এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে তৎপরতা বেশি পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের।

এর আগে পিএমএল-এন জোট গড়েছিল পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে। তাদের জোট পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) ক্ষমতায় বসেছিল। তবে এখন জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে পিপিপিকে সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। ক্ষমতা ভাগাভাগির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সতর্কভাবেই আলোচনা করছেন তাঁরা। কিছু কিছু ক্ষেত্রেও গোপনীয়তা রাখা হচ্ছে। পাঞ্জাব ও বেলুচিস্তান প্রদেশে জোট সরকার গঠনের বিষয়টিও আলোচনায় আছে।

আজ রোববার লাহোর ও ইসলামাবাদে বিভিন্ন দলের নেতাদের তৎপরতা বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রস্তাবিত জোট গঠনের প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা করতে আজ পিপিপির নেতা আসিফ আলী জারদারি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈঠকে অংশ নেবেন। জোট সরকারের এই আলোচনার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট পদটি কে পাবেন, তা নিয়েও দর-কষাকষি হবে। সে কারণে এটি নিয়েও আলোচনা চলছে।

এদিকে নির্বাচন–পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করতে পিএমএল-এনের আমন্ত্রণে এমকিউএম-পি দলের প্রতিনিধিরা লাহোরে আছেন। নির্বাচনের পরদিন পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফ জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেন। এরপর তিনি তাঁর ভাই ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে সরকার গঠনের ব্যাপারে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেন।

পিএমএল-এর অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের বরাতে ডন জানতে পেরেছে, গতকাল শনিবার পিএমএল-এন নেতারা কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে পিপিপিকে সমর্থন দেওয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। তবে তাঁরা এবার আর তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না, যেমনটা তাঁরা পিডিএম জোট গড়ার সময় করেছিলেন।

বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিএমএল-এন মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব বলেন, শাহবাজ শরিফ ও আসিফ আলী জারদারির মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁরা দুজনই জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে নিজ নিজ দলের নেতাদের পরামর্শ নেবেন।

পিএমএল-এন পিটিআই কিংবা পিটিআই–সমর্থিত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওরঙ্গজেব বলেন, ‘পিটিআই–সমর্থিত স্বতন্ত্রদের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছা পিএমএল-এনের নেই।

প্রস্তাবিত জোট সরকারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে শাহবাজ শরিফও আছেন। সূত্র বলছে, জোট সরকার গঠনের বিষয়ে পিএমএল-এন ও পিপিপির মধ্যে আরও আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, প্রেসিডেন্ট কে হবেন, কোন দলের নেতাকে বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, এমন আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এগুলোর জন্য অনেক আলোচনার প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে মডেল টাউনে অনুষ্ঠিত দলীয় এক বৈঠকে শাহবাজ শরিফ সব রাজনৈতিক দলকে পাকিস্তানের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।বৈঠকের সভাপতি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে শাহবাজ বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করব। নতুন সরকারের লক্ষ্য হবে জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বস্তি দেওয়া।’

বৈঠকে জানানো হয়, পিএমএল-এন কেন্দ্রীয়ভাবে জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে অন্য দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এদিকে পিএমএল-এন বিভিন্ন তৎপরতা চালালেও সরকার গঠনসংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে পিপিপির নেতাদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে দেখা গেছে।

পিপিপির নেতারা ডনকে গতকাল বলেন, ধরেই নেওয়া হচ্ছে যে তাঁদের দলের নেতারা কেন্দ্রীয়ভাবে পিএমএল-এনের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কীভাবে এমন ধারণা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁরা ‘হতবাক’। কারণ, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ওই নেতাদের দাবি, দলের ভেতরেও এমন আলোচনা হয়নি।

পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি ডনকে বলেন, ‘ক্ষমতা ভাগাভাগি কিংবা কেন্দ্রীয় জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা করিনি।’

সরকার গঠনের ব্যাপারে পিএমএল-এন ও পিপিপি একমত হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের এমন খবরের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিলাওয়াল বলেন, ‘এমন কিছু ঘটেনি। আমরা এখনো নির্বাচনের ফল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার মধ্যে আছি। যে নির্বাহী কমিটি আমাকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে, তারা আবারও বৈঠকে বসবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে।’


তীব্র বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিনি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের মধ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আরও এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় শহরজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সশস্ত্র ফেডারেল বাহিনী দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নেতারা।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের প্রধান ব্রায়ান ও’হারা জানান, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তিনি মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন। নিহত ব্যক্তির বাবা-মা তাকে অ্যালেক্স প্রেট্টি হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তিনি একটি হাসপাতালের আইসিইউতে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টসহ (আইসিই) বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। এসব অভিযানের মধ্যেই এই গুলির ঘটনা ঘটে।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড নামে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই শহরটিতে প্রতিদিন বিক্ষোভ চলছিল। গত সপ্তাহে আলাদা আরেক ঘটনায় মিনিয়াপোলিসে এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত হন।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেন্ট পল শহরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিষয়টি বহু আগেই কেবল অভিবাসন প্রয়োগের সীমা ছাড়িয়েছে। তার কথায়, এটি এখন অঙ্গরাজ্যের মানুষের বিরুদ্ধে সংগঠিত নিষ্ঠুরতার এক অভিযান। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত মিনেসোটা কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট একজন সশস্ত্র ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ব্যক্তি একটি হ্যান্ডগান বহন করছিলেন এবং অস্ত্র নামাতে বাধা দিচ্ছিলেন। বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সহিংসভাবে প্রতিরোধ করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রেকে আক্রমণ করে বলেন, তারা উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক বক্তব্য দিয়ে বিদ্রোহে প্ররোচনা দিচ্ছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, আইসিই কর্মকর্তাদের রক্ষা করতে স্থানীয় পুলিশকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দেওয়া দরকার।

আসলে কী ঘটেছিল?

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যালেক্স প্রেট্টি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের মোবাইল ফোনে ফেডারেল এজেন্টদের ছবি তুলছিলেন। একপর্যায়ে এক এজেন্ট পিপার স্প্রে ব্যবহার করলে প্রেট্টি তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করেন। এরপর একাধিক এজেন্ট তাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে আঘাত করতে থাকে। মাটিতে ধরে রাখার সময় এক এজেন্ট অস্ত্র বের করেন এবং একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে প্রেট্টির নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তদন্তকারী সংস্থা বেলিংক্যাট জানায়, ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, প্রথম গুলির আগে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের দাবি, অন্তত দুইজন এজেন্ট গুলি চালান এবং মোট ১০টির বেশি গুলির শব্দ শোনা যায়। বেশিরভাগ গুলিই প্রেট্টি মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকার সময় ছোড়া হয়।

পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও’হারা বলেন, নিহত ব্যক্তি বৈধভাবে অস্ত্র বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিনেসোটায় অনুমতি থাকলে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা আইনসম্মত।

তীব্র হয়েছে বিক্ষোভে

ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসের ওই এলাকায় কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল এজেন্টদের লক্ষ্য করে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এজেন্টরা কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, ছয়জনের বেশি মুখোশধারী এজেন্ট একজন বাসিন্দাকে মারধর করে গুলি করে হত্যা করেছেন—এমন ভিডিও তিনি নিজেই দেখেছেন। তার প্রশ্ন, আর কতজন মার্কিন নাগরিকের প্রাণ গেলে এই অভিযান বন্ধ হবে?

ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে এখনই মিনেসোটা থেকে আইসিই প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এই হত্যাকাণ্ডকে ‘একটি প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড’ বলে আখ্যা দেন এবং বলেন, ট্রাম্প মিনিয়াপোলিসকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছেন।

ঘটনার পর গভর্নর টিম ওয়ালজ জানান, তিনি হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। মিনিয়াপোলিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।