কৃষি ডেস্ক: বন্ধুর বাড়িতে দেখা একটি ছোট অ্যাকুয়ারিয়ামের রঙিন মাছের প্রতি মুগ্ধ হয়ে অভিনব উদ্যোগ শুরু করেছিলেন যশোরের এক মাদ্রাসার ছাত্র। মাত্র চল্লিশ টাকায় দুটি শৌখিন মাছ কিনে বাড়িতে এনে পরিচর্যা শুরু করার পর থেকেই তার উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ আট বছরের চেষ্টায় তিনি এখন প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার পুঁজির একটি বড় হ্যাচারির মালিক। বর্তমানে বাড়ির উঠানে ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুরে ৩০ প্রজাতির শৌখিন মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন তিনি।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি গত চার বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে এই মাছের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার হ্যাচারিতে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কমেট, কই কাপ, গাপ্পি, মলি শর্ট টেল, এঞ্জেল ফিশসহ প্রায় ৩০ ধরনের আকর্ষণীয় মাছ রয়েছে। চৌবাচ্চাগুলোতে মাছের উপযোগী শেওলার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক অক্সিজেন ও বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়।
শুরুতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এই মাছ চাষের উদ্যোগকে অবহেলা করলেও তিনি জেদের বশে কাজটি চালিয়ে যান। দাদার নেতিবাচক মন্তব্য ও পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার পর এখন তার বাবা–মা ও ভাই সবাই এই ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন। রাজধানীর কাঁটাবন ও খুলনার ফরাজীপাড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, আবদুল্লাহর উৎপাদিত মাছের গুণগত মান বেশ ভালো এবং উৎপাদনব্যবস্থায় অভিনবত্ব রয়েছে।
বর্তমানে তার হ্যাচারি থেকে সরবরাহ করা রঙিন মাছ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, শুরু থেকেই তারা আবদুল্লাহর হ্যাচারিটি তত্ত্বাবধান করে আসছে এবং তিনি নিয়মিত তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যকে এখন এলাকার অন্যান্যদের মাছ চাষে উৎসাহিত করার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।








