?> পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা
পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা

@ জান্নাতুল হাবিবা হীরামনি @

 পুষ্টির ডিনামাইট সজিনা। সজিনা ভেষজগুনেরও রাজা। এর জুড়ি মেলা ভার। সজিনা এক বিশেষ ধরনের সবজি। কোনো কোনো এলাকায় সজনা, সজনে কিংবা সাজনা বলে। ইংরেজি নাম ড্রামস্ট্রিক। এছাড়া বিখ্যাত কবিরাজগণ বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেন। যেমন: সুপত্রক, সুখামোদ, রুচিরঞ্জন, শোভারঞ্জন, উপদংশ, দংশমূল, শিগ্র“, মধুশিঘ্রক এবং তীক্ষœগন্ধ। সজিনাগাছ মাঝারি ধরনের বৃক্ষ। সাধারণত ৪০-৫০ ফুট উঁচু হয়। এর কাঠ খুব নরম এবং বাকল আঠাযুক্ত। সজিনা মাঘ-ফাল্গুনে গাছে ফুল আসে। এর রঙ সাদা। ফল পাকে চৈত্র -আষাঢ়ে। ফলের বীজ ক্রিকোণাকার। এর আদি নিবাস ভারত ও পাকিস্তান। সজিনার ডাঁটা উৎকৃষ্ট সবজি আর পাতা হিতকর শাক। ডাঁটার তৈরি রকমারি খাবার যেমন: ডালসজনা, ভর্তা, সরিষাবাটা সজনা, পাতাভাজি, শাকবড়া এবং ফুলের সাথে ডিম ভাজি দারণ রেসিপি! সজিনার ডাঁটা খেতে সুস্বাদু, তবে পাতা ও ফুল তিতা হলেও যথেষ্ঠ পুষ্টিকর। শুধু কী তাই! এতে রয়েছে ভেষজগুণে ভরপুর। সজিনা মুখে রুচি বাড়ায়। তাই রোগীর পথ্য হিসেবে অনন্য। এর বীজ হতে উৎপন্ন তেলের নাম ‘বেন ওয়েল’। মানুষের খাবারের পাশাপাশি পশুখাদ্য, ঘড়ি মেরামত, পানিশোধক, রঙ ও কাগজ তৈরিতে সজিনার ব্যবহার সমাদৃত। বহুগুণে গুণান্বিত সবজির মধ্যে এর স্থান শীর্ষে। এ কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সজিনাকে বলা হয় ‘জাদুর গাছ’। তাই এর গুণের কথা জেনে নেয়া দরকার।

পুষ্টিগুণে ভরপুর সজিনাঃ

সজিনা কেবল ভিটামিন সি ও ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সবজিই নয়, এর অন্য পুষ্টি উপাদানগুলোর পরিমাণও রয়েছে বেশ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম, ডাঁটায় (আহারোপযোগী) আমিষ ৩.২ গ্রাম, শর্করা ১১.৪ গ্রাম,, ক্যালসিয়াম ২১ মিলিগ্রাম,, লৌহ ৫.৩ মিলিগ্রাম,, চর্বি ০.১ গ্রাম,, ভিটামিন এ ৭৫০ মাইক্রো গ্রাম,, ভিটামিন বি১ ০.০৪ মিলি গ্রাম,, ভিটামিন বি২ ০.০২ মিলি গ্রাম,, ভিটামিন সি ৪৫ মিলি গ্রাম,, খনিজ লবণ ১.৯ গ্রাম,, আঁশ ৪.৮ গ্রাম,  এবং খাদ্যশক্তি আছে ৬০ কিলোক্যালরি। আর পাতায় রয়েছে ৬.৭ গ্রাম, আমিষ, ১২. গ্রাম, শর্করা, ৪৪০ মিলি গ্রাম, ক্যালসিয়াম, ৭ মিলি গ্রাম, লৌহ, ১.৭ গ্রাম,  চর্বি, ৬৭০০ মাইক্রো গ্রাম, ভিটামিন এ, ০.০১ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি১, ০.০৫ মিলি গ্রাম, ভিটামিন বি২, ২২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২.৩ গ্রাম, খনিজ লবণ, ০.৯ গ্রাম, আঁশ এবং ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। শুকনো পাতায় এর পরিমাণ আরো অধিক। সজিনাপাতায় দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক আছে। পুষ্টির পরিমাণ বেশি থাকার কারণে সজিনাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ উপাধি দেয়া হয়।

ভেষজগুণঃ 

সজিনা প্রায় তিনশ’ রোগের প্রতিকার এবং প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি ও লিভারকে সচল রাখে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং শরীরের কোলেস্টরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমানো, মায়ের দুধের পরিমাণ বাড়ানো, হজমে সহায়তাকরণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেও রাখে বিরাট ভূমিকা। এছাড়া ক্যান্সার, ব্লাডপ্রেসার, অ্যানিমিয়া, কিডনির পাথর, বন্ধ্যাত্ব, হার্ডের ব্যথা, জয়েন্টের ব্যথাসহ আরো নানা রোগের জন্য বেশ উপকারী। শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করতে সজিনার ডাঁটা সিদ্ধকরে চিবিয়ে খেতে হয়। এছাড়া কৃমিনাশক ও জ¦রনাশক হিসেবে কাজ করে। ফলের নির্যাস ধনুষ্টংকার, প্যারালাইসিস, যকৃত ও প্লীহাজনিত রোগের উপকার করে। সজিনার পাতা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। জ¦র ও সর্দি সারাতে সজিনাপাতার কার্যকারিতা বেশ। নিয়মিত পাতার রস খেলে শ^াসকষ্ট দূর হয়। পাতা বেটে টিউমার এবং ফোড়ায় ব্যবহার করলে উপকার হয়। দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়ায় কিংবা রক্ত দেখা দিলে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সজিনা পাতা গরম করে নিয়মিত দু’তিনবার কুলকুচা করতে হবে। এভাবে ৭/৮ দিন ব্যবহার করলে প্রতিকার পাওয়া যায়। ৮/১০ ফোঁটা পাতার রস, সে সাথে এক কাপ পরিমাণ দুধ মিশিয়ে খেলে হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে। পাকাপাতার ২/৩ চামচ রস খাবারের আগে খেলে উচ্চরক্তচাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীকে এ রস খাওয়ানো যাবে না। কুকুরে কামড়ালে সজিনা পাতা পিষে এর সাথে পরিমাণমতো হলুদ, রসুন, গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে খেলে বিষ নষ্ট হয়ে যায়। সাপেকাটা রোগীর জন্য এর মূল ও বীজ ব্যবহার হয়। কানসহ শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা হলে কিংবা ফুলে গেলে সজিনার শিকড় বেটে রস বের করে প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। কুষ্ঠ রোগ হলে বীজের তেল বা বীজ বেটে প্রলেপ দিলে ভালো কাজ করে। বাতে আক্রান্ত করলে প্রতিদিন ৪/৫ চা চামচ গাছের ছালের রস খেলে আরাম অনুভব হবে। হাঁপানীর জন্য ফুলের রস বেশ উপকারী। এছাড়া দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে কিডনির পাথর নিমূল করে। ফুল ও ডাঁটা পক্স প্রতিরোধক। মূলের ছাল বেটে প্রলেপ দিলে দাদ (দাউদ) রোগ ভালো হয়। কপালে আঠা মালিশ করলে কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মাথা ব্যথা দূর হয়। খুসকি দূর করতে পাতার রস মাথায় ভালোভাবে ঘষতে হবে।সজিনার ফল, বিচি, পাতা, ফুল, গাছের বাকল, মূল এবং আঠা প্রতিটি মহামূল্যবান। এসব ব্যবহারে দেহে পুষ্টির অভাব পূরণ হয়। পাশাপাশি শরীরকে নীরোগ রাখে ।


সাবুদানার লাড্ডু বানিয়েছেন কখনো? রেসিপি দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সাবুদানার লাড্ডু বানিয়েছেন কখনো? রেসিপি দেখুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক: একসময়ে সাবুদানা কেবল অসুস্থ রোগীদের পথ্য হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে এটি দিয়ে নানা সুস্বাদু ও মুখরোচক পদ তৈরি করা যায়। সাধারণ মিষ্টির ভিড়ে ভিন্ন স্বাদের কিছু পরিবেশন করতে চাইলে সাবুদানার লাড্ডু হতে পারে একটি দারুণ এবং ব্যতিক্রমী পছন্দ। রন্ধনশিল্পী অসিত কর্মকার অত্যন্ত সহজে এই লোভনীয় মিষ্টি পদটি তৈরির সুনির্দিষ্ট প্রণালি ও উপকরণের তালিকা প্রকাশ করেছেন। ছুটির দিনে বা যেকোনো বিশেষ আয়োজনে পরিবারের সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে এই অভিনব লাড্ডু তৈরি করে চমকে দিতে পারেন।

এই সুস্বাদু লাড্ডু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে রয়েছে আধা কাপ সাবুদানা, পানি ঝরানো এক কাপ টাটকা ছানা, স্বাদমতো আধা কাপ চিনি এবং তিন থেকে চার টেবিল চামচ কনডেন্সড মিল্ক। এ ছাড়া বাইন্ডিং ও সুগন্ধের জন্য প্রয়োজন হবে দুই টেবিল চামচ ঘি, আধা চা-চামচ এলাচগুঁড়া এবং সাজানোর জন্য কিছু জাফরান। রান্নার শুরুতে সাবুদানাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে অল্প পানিতে প্রায় এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। সেদ্ধ সাবুদানা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে রাখলে দানাগুলো ঝরঝরে থাকে এবং একে অপরের গায়ে লেগে যায় না।

চুলায় কড়াই বসিয়ে তাতে সামান্য ঘি গরম করে মসৃণ করে রাখা ছানা ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে কম আঁচে অনবরত নাড়তে হবে। চিনি গলে ছানার সঙ্গে পুরোপুরি মিশে গেলে খেয়াল রাখতে হবে যেন মিশ্রণটি অতিরিক্ত শুকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়। ছানা নরম থাকা অবস্থাতেই সেদ্ধ করা সাবুদানা এবং কনডেন্সড মিল্ক কড়াইয়ে ঢেলে দিতে হবে। এরপর সব উপকরণ একসঙ্গে কম আঁচে তিন থেকে চার মিনিট নাড়তে হবে যতক্ষণ না মিশ্রণটি কড়াইয়ের তলা ছেড়ে একটি দলা পাকানো রূপ নেয়।

মিশ্রণটি চুলা থেকে নামানোর ঠিক আগে এলাচগুঁড়া ছড়িয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে একটি থালায় ঢেলে কিছুটা ঠান্ডা করে নিতে হবে। তবে পুরোপুরি ঠান্ডা না করে মিশ্রণটি হালকা গরম বা ঈষদুষ্ণ থাকা অবস্থাতেই হাতে সামান্য ঘি মাখিয়ে নিতে হবে। এরপর হাতের সাহায্যে অল্প অল্প অংশ নিয়ে গোল গোল লাড্ডুর আকারে পাকিয়ে পছন্দমতো সাজিয়ে নিতে হবে। পরিশেষে লাড্ডুগুলোর ওপর জাফরান বা বাদাম কুচি ছড়িয়ে সুন্দরভাবে পরিবেশন করা যাবে এই মুখরোচক মিষ্টি।


সিম্পসন’স প্যারাডক্স: যখন পরিসংখ্যান মিথ্যা না বলেও ধোঁকা দেয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সিম্পসন’স প্যারাডক্স: যখন পরিসংখ্যান মিথ্যা না বলেও ধোঁকা দেয়

ফিচার ডেস্ক: পরিসংখ্যান বা সংখ্যাতত্ত্ব সবসময় সত্য কথা বললেও মাঝেমধ্যে আমাদের এমন এক বিভ্রান্তির মুখে ফেলে দেয়, যা আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব বলে মনে হয়। গণিত ও পরিসংখ্যানের এই অদ্ভুত জটিলতাকে বিজ্ঞানের ভাষায় সিম্পসনস প্যারাডক্স বলা হয়ে থাকে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে দুটি আলাদা উপাত্তে এক ধরনের প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু সেই উপাত্তগুলো একত্র করা হলে পুরো চিত্রটাই উল্টে যায়।

এই জটিল বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সহজ উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। ধরা যাক, দুটি আলাদা হাসপাতাল রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে এবং তাদের সাফল্যের হার তুলনা করা হচ্ছে। সেখানে দেখা যেতে পারে যে হাসপাতাল এ অপেক্ষাকৃত সহজ বা কম জটিল রোগীদের চিকিৎসা করে, অন্যদিকে হাসপাতাল বি-তে তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল রোগীদের পাঠানো হয়।

রোগীর শারীরিক অবস্থার এই গুরুতর তারতম্য না বুঝে যদি কেবল সামগ্রিক সাফল্যের হারের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল দুটির তুলনা করা হয়, তবে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক সময় অভিজ্ঞ গবেষক ও বিশ্লেষকরাও সংখ্যাতত্ত্বের এই গোলকধাঁধায় পড়ে ভুল ধারণা পোষণ করেন।

তাই যেকোনো পরিসংখ্যানগত তথ্য বা গবেষণার ফলাফল অন্ধভাবে বিশ্বাস করার আগে তার পেছনের অন্তর্নিহিত গঠন ও প্রেক্ষাপট ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংখ্যা কখনো মিথ্যা বলে না সত্যি, কিন্তু সঠিকভাবে সাজানো বা ব্যাখ্যা না করা হলে তা মানুষের মনে সত্যের বদলে গভীর ধোঁকা তৈরি করতে পারে।


২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

২৮০ টাকায় কেনা সাইকেলটি ৬০ বছর পরও সামাদের সঙ্গী

ফিচার ডেস্ক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সামাদ প্রামাণিক একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘সামাদ প্রফেসর’ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বয়স সত্তরে কোঠা পেরোলেও শরীর ও মনের সতেজতা অবাক করার মতো। আর তাঁর এই দীর্ঘ পথচলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে একটি ব্রিটিশ আমলের বাইসাইকেল। প্রায় ছয় দশক ধরে প্রতিদিন এই সাইকেল চালিয়েই তিনি নিজের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করেন।

১৯৬৬ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে মাত্র ২৮০ টাকা দিয়ে তাঁকে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের এই সাইকেলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। উনিশশো উনসত্তরে উচ্চশিক্ষার জন্য এই বাহনটি নিয়েই তিনি রাজশাহী শহরে পাড়ি জেমছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক এলে সাইকেলটি বাড়িতে রেখেই তিনি রণাঙ্গনে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাড়ি ফিরে অক্ষত অবস্থায় প্রিয় সাইকেলটি খুঁজে পান তিনি। পরে সেটি নিয়ে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান এবং ১৯৭৩ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনেও তাঁর এই বাইসাইকেলটি ছিল প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। ১৯৭৭ সালে ভবানীগঞ্জ কলেজে গ্রন্থাগারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, ১৯৮৪ সালে তিনি একই কলেজের সমাজকর্ম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পান। নিজ বাড়ি থেকে কলেজ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ তিনি প্রতিদিন এই সাইকেলে চড়েই যাতায়াত করতেন। এমনকি ২০০৯ সালে নিজের অবসরের দিনেও তিনি সাইকেল চালিয়েই কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। অবসরে যাওয়ার পরও তাঁর এই দ্বিচক্র যানের প্রতি আগ্রহ বিন্দুমাত্র কমেনি।

বর্তমান সময়েও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে সাইকেলটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে মূল ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ না মেলায় তিনি সবসময় ভালো মানের বিকল্প যন্ত্রাংশ ও টিউব লাগিয়ে এটি সচল রেখেছেন। নিজের শরীরের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এই বাহনটিরও দেখভাল করে থাকেন। তাঁর মতে, বার্ধক্যেও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পেছনে নিয়মিত সাইকেল চালানোর বড় অবদান রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও তাঁর সহযোদ্ধারা শিক্ষক সামাদের এই জীবনযাপন দেখে দারুণ অনুপ্রাণিত হন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস আলী মোল্লা জানান, ছাত্রজীবন থেকে তাঁরা সামাদকে এই একই সাইকেলে চলাচল করতে দেখে আসছেন। ভবানীগঞ্জ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রফিকুল ইসলামের মতে, এই সাইকেলটি কেবল একটি বাহন নয়, বরং এটি তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসার একটি গভীর প্রতীক। সামাদ প্রামাণিক নিজেই মনে করেন, এই সাইকেল এখন আর কেবল কোনো জড় বস্তু নয়, বরং এটি তাঁর পরিবারেরই একজন আপন সদস্যের মতো।