?> সুন্দরবনের প্রায় চল্লিশ শতাংশ সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

সুন্দরবনের প্রায় চল্লিশ শতাংশ সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবনের প্রায় চল্লিশ শতাংশ সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত

কৃষি ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রতি ১০টি সুন্দরীগাছের মধ্যে প্রায় ৪টি বা ৩৯ শতাংশ গাছ আগামরা বা টপ-ডাইং রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে এই বনের প্রায় ৩৩ কোটি সুন্দরীগাছের মধ্যে ১২ কোটি ৯৫ লাখ গাছে এই রোগ রয়েছে, যার মধ্যে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা দুই কোটির বেশি। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সুন্দরবনের প্রতিবেশব্যবস্থা নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণা অনুযায়ী, আগামরা রোগের কারণে প্রথমে গাছের পাতা আক্রান্ত হয় এবং পরবর্তীতে ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা শুকিয়ে মূলকাণ্ড ধ্বংস হয়ে যায়। উচ্চ ও মাঝারি মাত্রার লবণাক্ত অঞ্চলে সুন্দরীগাছে এই রোগের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। এছাড়া উজান থেকে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনের প্রতিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ও সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্বপন সরকার জানান, ১৯৮৬ সালের তুলনায় বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ গাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আক্রান্ত গাছের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা জানিয়েছেন, ২৫ শতাংশের কম আক্রান্ত গাছ রয়েছে আট কোটির বেশি এবং সম্পূর্ণ মূলকাণ্ডসহ ৫০ শতাংশের বেশি আক্রান্ত গাছের সংখ্যা দুই কোটির কাছাকাছি। এই বিপুল পরিমাণ গাছ অসুস্থ থাকায় সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের হার এবং কার্বন শোষণের ক্ষমতা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া বনের প্রতি হেক্টরে চারার ঘনত্বও আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বনের বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, টপ-ডাইং সুন্দরবনের একটি শতাব্দীপ্রাচীন সমস্যা এবং অতীতে আক্রান্ত গাছ কেটে ফেলার পদ্ধতি কার্যকর না হওয়ায় তা বন্ধ করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুন্দরীগাছের এই দুর্দশা চলতে থাকলে সুন্দরবনের আচ্ছাদন, কার্বন সঞ্চয় ক্ষমতা এবং বন্য প্রাণীর আবাসস্থল স্থায়ীভাবে বদলে যেতে পারে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালেদ মিসবাহুজ্জামান বলেন, সুন্দরবনের প্রধান প্রজাতি সুন্দরী কমে যাওয়ার ফলে অনেক স্থানে সিংড়া, আমুর ও গরানের মতো ছোট প্রজাতির বিস্তার ঘটছে। বন ও বন্য প্রাণীর ওপর এসব পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব জানতে এবং সুন্দরবন রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক গবেষণার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পঞ্চগড়ের বোদায় পোকার আক্রমণ ও কৃষিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবহেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদায় পোকার আক্রমণ ও কৃষিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবহেলার অভিযোগ

কৃষি ডেস্ক: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও কৃষকেরা কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। বড়শশী ইউনিয়নের মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল ইসলামের খেতে পোকার আক্রমণ হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোঁজ নেননি। উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। ফসলে রোগবালাই দেখা দিলেও সময়মতো কৃষি বিভাগের পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোু. আসাদুজ্জামান সরকার নিয়মিত এলাকায় আসেন না। মাঠে কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি না থাকায় এবং নিয়মিত কৃষক গ্রুপের সভা না হওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। মায়াপাড়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম ২২ বিঘা জমিতে আবাদ করলেও ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো পরামর্শ পাননি। অমরখানা গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন ও সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুরুল ইসলামও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

অভিযুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সরকার দাবি করেছেন, অনেক কৃষক তাঁকে নাও চিনতে পারেন তবে যোগাযোগ করলে পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষকদের আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি জানান, যাঁরা তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন, তাঁদের তিনি নিয়মিত কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী রাশেদ কৃষকদের এই অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কৃষকদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের এমন অনুপস্থিতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে কৃষকদের ফসল রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।