?> চা খাতকে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ আত্মঘাতী | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

চা খাতকে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ আত্মঘাতী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

চা খাতকে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ আত্মঘাতী

কৃষি ডেস্ক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে চা-কে কেবল কৃষিপণ্য হিসেবে ঘোষণার সুপারিশকে আত্মঘাতী ও সরকারের নীতির সঙ্গে স্ববিরোধিতা বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসকাবে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় তিনি এই সুপারিশ পুনর্বিবেচনার জোরালো আহ্বান জানান। পিপিআরসি, সেড এবং বিআরসি যৌথভাবে চা-শিল্পের পুনর্গঠন ও চা-শ্রমিকদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, চলতি বছরের জুলাই মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স চা-বাগানগুলোর ঋণ সুবিধা ও ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি চা-কে কৃষিপণ্য হিসেবে গণ্য করার ১০টি সুপারিশ প্রদান করে। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চা মূলত কৃষি ও শিল্পের এক মিলিত রূপ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী এর একটি নির্দিষ্ট অংশ কৃষি ও শিল্প উভয় খাতের সঙ্গেই যুক্ত। সব কোম্পানিকে এক পাল্লায় না মেপে পুরো খাতের টেকসই বিকাশ ও উৎপাদনশীলতার ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সেডের পরিচালক ফিলিপ গাইন জানান, চা-শিল্প পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় শ্রমিক বা ট্রেড ইউনিয়নের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি এবং কেবল মালিকপক্ষের সংগঠনকে যুক্ত করা হয়েছে। সেডের চেয়ারপারসন খুশী কবির বলেন যে চা-শ্রমিকেরা বাগানের ভেতরেই বসবাস করেন বিধায় যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান এবং বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদও কমিটিতে শ্রমিক বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

চা-শ্রমিক খায়রুন আকতার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে তিনি নিজেকে কৃষিশ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিতে রাজি নন এবং কেবল মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। হোসেন জিল্লুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে বর্তমান রাজস্ব সংকটে মালিকদের দায় সরকারের কাঁধে চাপানো এবং দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বাদ দিয়ে বিদেশি পরামর্শকের ওপর নির্ভরতা হতাশাজনক। চা কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়, এর একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্যগত মূল্য রয়েছে এবং তা উপেক্ষা করে চরিত্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা ; লাগাম টানতে মাঠে নামছে ভোক্তা-অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা ; লাগাম টানতে মাঠে নামছে ভোক্তা-অধিকার

বার্তাবেলা: পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরই বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হু হু করে বাড়ানো হচ্ছে এই কৃষিপণ্যটির দাম। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযানে নামছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভোক্তা-অধিকার জানিয়েছে, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান চালানো হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। যা গতকাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়। ভারত সরকারের এ ঘোষণার পর বাংলাদেশের বাজারে রাতারাতি পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আমদানি করা পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় তেমন প্রভাব পড়বে না।

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড বা বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, নিজেদের দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে পণ্যটি রপ্তানির ওপর আগামী মার্চ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভোক্তা-অধিকারের বিজ্ঞাপ্তিতে বলা হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ঢাকায় অধিদপ্তরের চারজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চারটি পৃথক টিম বাজার অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়া দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করবে।

ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর টনপ্রতি পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ দেওয়া হলেও সময়সীমার শেষ হওয়ার তিন সপ্তাহ আগেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

এদিকে, ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরই দেশের বাজারে হু হু করে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। একদিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১২০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন এ পেঁয়াজের কেজি ২৪০ টাকা। আর কেজিতে ৯০ টাকা বেড়ে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। কেউ কেউ ২২০ টাকাও দাম হাঁকছেন।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর রামপুরা কাঁচাবাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, গোদারাঘাট, উলন বাজারসহ কয়েকটি বাজারে ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।


রাজশাহীতে হিমাগারে নির্ধারিত ভাড়ায় আলু সংরক্ষণের দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজশাহীতে হিমাগারে নির্ধারিত ভাড়ায় আলু সংরক্ষণের দাবি ব্যবসায়ীদের

রাজশাহীতে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন ৫ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া নির্ধারণ করলেও অধিকাংশ হিমাগার তা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পবা উপজেলার তকিপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আলু ব্যবসায়ীরা। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে হিমাগার মালিকদের প্রতি এই নির্ধারিত ভাড়া দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি এবং এ সময় সংগঠনের সভাপতি মো. আহাদ আলীসহ স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে চাষি ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারভাড়া কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুলাই গঠিত জেলা কমিটি প্রতি কেজি ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। পরবর্তীতে ৩১ আগস্ট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সারা দেশের জন্য ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করলেও রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান। ভাড়াসংক্রান্ত এই বিরোধের জেরে সম্প্রতি পবার একটি হিমাগারে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং এতে সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া ৫ টাকা ৭৫ পয়সা চূড়ান্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের চিঠি পাওয়ার পর কিছু হিমাগার নতুন ভাড়া নেওয়া শুরু করলেও জেলার প্রায় ৪০টি হিমাগারের বেশির ভাগেই তা এখনো কার্যকর হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হিমাগার মালিক বা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এদিকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সভার সিদ্ধান্ত ও কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সবার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এই ভাড়া কার্যকর হবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী জেলা কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর না হওয়ায় সাধারণ আলুচাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। উৎপাদন খরচের সঙ্গে হিমাগারভাড়ার সামঞ্জস্য না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রায়ই উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে যা কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পরপরই বড় পতনে সোনা

বার্তাবেলা: বিশ্ববাজারে প্রথমবারের মতো এক আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ১০০ ডলার স্পর্শ করে সপ্তাহে। সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পর অবশ্য সেই দাম ধরে রাখতে পারেনি এ ধাতুটি। রেকর্ড সৃষ্টির পর বড় পতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ধাতুটির দাম প্রায় ৭০ ডলার কমেছে।

বিশ্ববাজারের মতো দেশের বাজারেও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কয়েক দফা দাম বাড়ার পর গত সপ্তাহে দেশের বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তবে, বিশ্ববাজারে যে হারে দাম কমেছে দেশের বাজারে দাম কমার হার সেই তুলনায় কম।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ২ হাজার ৭১ দশমিক ৯৭ ডলার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ৪ ডিসেম্বর লেনদেন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ২ হাজার ১২৪ দশমিক ৭৩ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আর আগে বিশ্ববাসী দেখেনি।

অবশ্য এ রেকর্ড দাম হওয়ার পরপরই পতনের মধ্যে পড়ে সোনা। ওই দিনই প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ২ হাজার ২১ ডলারে চলে আসে। অর্থাৎ একদিনেই সোনার দাম ১০০ ডলারের ওপর কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একদিনের মধ্যে সোনার দামে এমন উত্থান-পতনও আগে কখনো দেখা যায়নি।

সোনার দামের এমন উত্থান-পতন বিস্মিত করেছে এ খাত সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, দাম বাড়বে এবং কমবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু একদিনের মধ্যে এক আউন্স সোনার দাম প্রায় ১০০ ডলার বেড়ে যাওয়া এবং কমে যাওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। সাধারণত দাম বাড়া বা কমার পেছনে কোনো না কোনো ঘটনা থাকে। কিন্তু এবার কি কারণে এমন দাম বাড়লো এবং কি কারণেই দরপতন হলো তার কোনো কারণ খুঁছে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই এক আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ১২৪ ডলারে ওঠে। সোনার এত দাম আগে কখনো হয়নি। কিন্তু এ রেকর্ড দামের পরই আমরা আবার বড় দরপতন দেখতে পাই। একদিনের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১০০ ডলার কমে যায়। সোনার দামে এমন অস্থিরতা আগে দেখা যায়নি। এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি যখন সোনার দাম বেড়েছে বা কমেছে তার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে। কিন্তু এবার কেন সোনার এত দাম বাড়লো, আবার কেনই বা কমলো তার কোনো কারণ জানতে পারেনি। এটা শুধু আমাদের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের নয়, অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও বিস্মিত করেছে।

এদিকে একদিনে বড় উত্থান পতনের পর গত সপ্তাহের বাকি চার কর্যদিবসেও সোনার দাম কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমে ১ হাজার ৯৯৫ ডলারে চলে আসে। তবে শেষদিকে কিছুটা দাম বেড়ে ২ হাজার ৩ দশমিক ৯৪ ডলারে থিতু হয়েছে সোনা।

এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৮ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেই কমেছে ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় পতন হওয়ায় দেশের বাজারে গত সপ্তাহের সোনার দাম কিছুটা কমিয়েছে বাজুস। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠক করে ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে।

ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮ হাজার ১২৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩ হাজার ২২৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ৮৮ হাজার ৪৭১ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা কমিয়ে ৭৩ হাজার ৭১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে।

অবশ্য সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের এর থেকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। কারণ বাজুস নির্ধারণ করা দামের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে সোনার গহনা বিক্রি করা হয়। সেইসঙ্গে ভরিপ্রতি মজুরি ধরা হয় ন্যূনতম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। ফলে আগামীকাল থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা কিনতে ক্রেতাদের ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০ টাকা গুনতে হতো।

এ দাম কমানোর আগে ৩০, ২৭, ১৯ ও ৬ নভেম্বর এবং ২৭ অক্টোবর সোনার দাম বাড়ানো হয়। অর্থাৎ টানা পাঁচ দফা দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়। ৩০ নভেম্বর সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৫৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৮৯ হাজার ৯২৯ এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৪ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দেশের বাজারে এর থেকে বেশি দামে আর সোনা বিক্রি হয়নি।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বড় পতন হওয়ায় এখন দেশের বাজারে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে এমএ হান্নান আজাদ বলেন, সর্বশেষ আমরা যখন দাম সমন্বয় করেছি সে সময় স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার যে দাম ছিল এখনো প্রায় তাই রয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আমরা সোমবার বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি দেখবো। যদি দাম সমন্বয়ের মতো হয়, তাহলে দাম সমন্বয় করা হবে।