?> ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষে সফলতা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষে সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ধামরাইয়ে জমির আইলে মরিচ চাষে সফলতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
ধান ক্ষেতের জমির আইল সাধারণত অব্যবহৃত পড়ে থাকে। সেই জমির আইলকে কাজে লাগিয়ে 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করে সুফল পাচ্ছেন কৃষক আলী আজম। এ যেন বাড়তি আয়ের নতুন পথ। উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় জমির আইলে মরিচ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।

উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় মরিচ চাষ করেছেন কৃষক আলী আজম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের শোলধন এলাকায় কৃষক আলী আজম তার দুই একর বোরো ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ করেন। ফলনও খুব ভালো হয়। অব্যবহৃত জমির আইলে মরিচ চাষ করে নতুন দিগন্তের পথ বের হয়েছে। এতে করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাচ্ছেন কৃষক। তার এই উদ্যোগ দেখে আলী আজমের মতো মরিচ চাষ আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার আরও অনেকেই ।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ‘পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় আলী আজম এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায় ।

ধানের পাশাপাশি ধানের জমির আইলে মরিচ চাষের ফলে জমির ফাঁকা জায়গাওর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে অতিরিক্ত আয়। মরিচ গাছে ফলনও এসেছে প্রচুর।

মৌসুম শেষে আরও প্রায় ২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকেই।

কৃষক আলী আজম বলেন, আমার বাড়ির পাশে দু্ই একর ধানের জমি রয়েছে। জমির আইল আগে খালি থাকত। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই জমির আইলে ‘পার্টনার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মরিচ চাষ শুরু করি। ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। ৩-৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রিও করেছি। মরিচের মৌসুম শেষ হতে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, আমি কৃষক আলী আজমকে প্রণোদনা হিসেবে মরিচের বীজ দেই। তিনি দুই একর ধানের জমির আইলে মরিচ চাষ শুরু করেন। আলী আজম এখন প্রায় ৪ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করে। এছাড়া নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আরো প্রায় ২০/৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। এটি পার্টনার পদ্ধতিতে চাষ করা হয়েছে। জমির আইল এখন থেকে আর অব্যবহৃত থাকবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরিফুর রহমান বলেন, পার্টনার প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধানের জমির আইলে মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। পরিবারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এতে একদিকে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় অপরদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিও ঘটে। যে কোনো কৃষক বা বেকার যুবকরা এমন কাজে আগ্রহী হতে পারে। আমরা কৃষি অফিস থেকে সব রকম সাপোর্ট দেব।

স্বামীর স্বপ্ন পূরণে বিদেশি ফল চাষে সফল হলেন নীলফামারীর খাদিজা আক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

স্বামীর স্বপ্ন পূরণে বিদেশি ফল চাষে সফল হলেন নীলফামারীর খাদিজা আক্তার

স্বামীর মৃত্যুর পর চরম প্রতিকূলতা পেরিয়ে নীলফামারীর জলঢাকার খাদিজা আক্তার বিদেশি ফল ও কফি চাষ করে অনন্য সফলতা অর্জন করেছেন। ২০১৩ সালের শেষ দিকে তাঁর স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। স্বামীর অবর্তমানে দুই ছেলেকে রংপুরে রেখে পড়াশোনার খরচ চালানো এবং বাজারের স্টেশনারি দোকান সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নানা কটু কথা শুনেও তিনি দমে যাননি এবং স্বামীর স্বপ্ন পূরণে একা হাতে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে এবং বড় ছেলের পরামর্শে খাদিজা ও তাঁর ছেলে ২০১৮ সালে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে অ্যারাবিকা জাতের কফি চাষ শুরু করেন। এরপর একে একে তারা আঙিনায় ও বাগানে রামবুটান, কোকো, ড্রাগন ও প্যাশন ফলের চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তাঁর পাঁচ বিঘা জমির বাগানে কফি, রামবুটান ও ড্রাগনের পাশাপাশি পুকুরে রঙিন মাছের পোনা চাষ করা হচ্ছে। কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বাগান থেকে ফল ও চারা বিক্রি করে বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

নারী উদ্যোক্তা খাদিজা আক্তার কফি ও ফল চাষের শুরু নিয়ে জানান, তিনি নিজে কফি পছন্দ করতেন এবং বড় ছেলের উৎসাহে পতিত জমিতে প্রথম কফির চারা লাগান। তাঁর বড় ছেলে এমবিএ শেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন এবং ছোট ছেলে কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে বাগানের পরিচর্যা ও অনলাইন বিপণনে সহায়তা করছেন। স্বামীর শেষ ইচ্ছামতো সন্তানদের সুশিক্ষিত করে মানুষ করতে পেরেছেন বলে তিনি এটিকে নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন।

কৃষি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্প্রতি জেলার সেরা নারী কৃষি উদ্যোক্তার পুরস্কার এবং এর আগে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে সম্মাননা লাভ করেছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাঁর এই সংগ্রামী ভূমিকার প্রশংসা করে জানান, খাদিজার সাফল্য দেখে এলাকার অন্য নারীরাও এখন দেশি-বিদেশি ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।


চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো ভ্যানিলা চাষ করে সফল হলেন হুমায়ুন কবীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবারের মতো ভ্যানিলা চাষ করে সফল হলেন হুমায়ুন কবীর

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর কলোনিপাড়ায় প্রথমবারের মতো অত্যন্ত লাভজনক মশলা জাতীয় ফসল ভ্যানিলা চাষ করে এলাকায় দারুণ সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর ফরাজী। দীর্ঘ চার বছর ধরে নিবিড় পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে তার খামারে থাকা ভ্যানিলা গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছে। তার প্রতিষ্ঠিত এই খামারটির নাম দেওয়া হয়েছে নিউ কামাল এগ্রো।

জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বেগমপুর কলোনিপাড়া গ্রামের এই খামারটিতে রয়েছে ডেইরি ও বিভিন্ন পশুপালনের ব্যবস্থা। খামারের ভেতরে প্রায় ১০ কাঠা জমি বিশেষ নেটের সাহায্যে ঘিরে তার ভেতরে ৬০০ থেকে ৭০০ পিলারের সাথে লতানো ভ্যানিলা গাছ লাগানো হয়েছে। এসব গাছের আগা থেকে বর্তমানে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা ভ্যানিলা ফল ঝুলতে দেখা যাচ্ছে।

উদ্যোক্তা হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করে আসছিলেন এবং তার বাবার কুষ্টিয়ার ফলের আড়তের ব্যবসায়িক সূত্রে আধুনিক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে ভ্যানিলার চারা ও চাষপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন এবং ইউটিউব ও বিভিন্ন প্রজেক্ট প্রোগ্রাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২২ সালে এই চারাগুলো রোপণ করেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবীর ফরাজী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে ১০ কাঠা জমিতে এই ভ্যানিলা চাষ করেছেন এবং চার বছর পর তার গাছে কাঙ্ক্ষিত ফুল ও ফল এসেছে। কৃষি বিভাগের আশা অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই বাগান থেকে সমস্ত ভ্যানিলা ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।


পড়ার পাশাপাশি মাত্র চল্লিশ টাকার মাছ দিয়ে সফল হ্যাচারি উদ্যোক্তা তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

পড়ার পাশাপাশি মাত্র চল্লিশ টাকার মাছ দিয়ে সফল হ্যাচারি উদ্যোক্তা তরুণ

কৃষি ডেস্ক: বন্ধুর বাড়িতে দেখা একটি ছোট অ্যাকুয়ারিয়ামের রঙিন মাছের প্রতি মুগ্ধ হয়ে অভিনব উদ্যোগ শুরু করেছিলেন যশোরের এক মাদ্রাসার ছাত্র। মাত্র চল্লিশ টাকায় দুটি শৌখিন মাছ কিনে বাড়িতে এনে পরিচর্যা শুরু করার পর থেকেই তার উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ আট বছরের চেষ্টায় তিনি এখন প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার পুঁজির একটি বড় হ্যাচারির মালিক। বর্তমানে বাড়ির উঠানে ৬০টি চৌবাচ্চা ও একটি পুকুরে ৩০ প্রজাতির শৌখিন মাছ বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন তিনি।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়ালেখার পাশাপাশি গত চার বছর ধরে তিনি বাণিজ্যিকভাবে এই মাছের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তার হ্যাচারিতে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কমেট, কই কাপ, গাপ্পি, মলি শর্ট টেল, এঞ্জেল ফিশসহ প্রায় ৩০ ধরনের আকর্ষণীয় মাছ রয়েছে। চৌবাচ্চাগুলোতে মাছের উপযোগী শেওলার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক অক্সিজেন ও বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়।

শুরুতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এই মাছ চাষের উদ্যোগকে অবহেলা করলেও তিনি জেদের বশে কাজটি চালিয়ে যান। দাদার নেতিবাচক মন্তব্য ও পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার পর এখন তার বাবা–মা ও ভাই সবাই এই ব্যবসায় সহযোগিতা করছেন। রাজধানীর কাঁটাবন ও খুলনার ফরাজীপাড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, আবদুল্লাহর উৎপাদিত মাছের গুণগত মান বেশ ভালো এবং উৎপাদনব্যবস্থায় অভিনবত্ব রয়েছে।

বর্তমানে তার হ্যাচারি থেকে সরবরাহ করা রঙিন মাছ ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছে যাচ্ছে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, শুরু থেকেই তারা আবদুল্লাহর হ্যাচারিটি তত্ত্বাবধান করে আসছে এবং তিনি নিয়মিত তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যকে এখন এলাকার অন্যান্যদের মাছ চাষে উৎসাহিত করার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।