পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন দুই কসাই। সম্প্রতি পুলিশ নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে এই পচা ও রোগাক্রান্ত মাংস উদ্ধার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন লঙ্ঘন ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে তাদের উভয়কে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বেড়হাউলিয়া পূর্বপাড়া কাশেমের বটতলা এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি চলছিল। এ সময় সাঁথিয়াগামী একটি অটোরিকশার ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় চার মণ ওজনের চামড়া ছাড়ানো গরুর খণ্ডিত দেহাংশ জব্দ করা হয়। পরে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কসাইয়ের পেশার কথা স্বীকার করেন।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার রবিন প্রামাণিক ও মোলাই মাণিক ওরফে বাবর আলী। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে ৪০ হাজার টাকায় তারা অসুস্থ গরুটি কিনেছিলেন। পরে সেটি জবাই করে মাংস বিক্রির জন্য সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিজেদের দোকানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যার সপক্ষে তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল হাসান মাসুদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জব্দকৃত মাংসসহ তাদের পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ও ফলপ্রসূ বলে মনে করা হচ্ছে।








