?> ফিড ও কাঁচামালের লাগামহীন দামে চরম বিপাকে দেশের পোলট্রি খামারিরা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

ফিড ও কাঁচামালের লাগামহীন দামে চরম বিপাকে দেশের পোলট্রি খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিড ও কাঁচামালের লাগামহীন দামে চরম বিপাকে দেশের পোলট্রি খামারিরা

সম্প্রতি পোলট্রি ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামালের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার পাঁচবাড়ির পোলট্রি খামারি মোমিনুল ইসলাম জানান, খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি মুরগির খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্রয়লার মুরগির কাঙ্ক্ষিত ওজন না পাওয়ায় বাজারে ভালো দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা। ক্রমবর্ধমান লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খামারে উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছেন অথবা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে ভুট্টার দাম কেজিপ্রতি ৩১ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৮ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ডিওআরবির দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা এবং চালের কুঁড়ার দাম ৩৩ টাকা থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা হয়েছে। পাশাপাশি সরিষার খৈল ও সয়াবিন মিলের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের বিনিময় হারের ওঠা-নামা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের ফিডের বাজারে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, মানসম্মত ফিড তৈরির মোট খরচের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই কাঁচামাল কেনায় ব্যয় হয়। বগুড়া সদরের খামারি হাফিজুর রহমান জানান, বিভিন্ন প্রাণিজ খাবারের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজীপুরের বিক্রেতা সলিম উল্যাহ উল্লেখ করেন যে, বেশি দামে ফিড কিনে বিক্রির কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান স্থানীয় কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. শফিকুর রহমান শিশির স্থানীয় চাহিদা পূরণ এবং আমদানির কর সাময়িকভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফিডের দাম এভাবে বাড়লে সামগ্রিকভাবে পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশু উৎপাদনের খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরব আমিরাত
রমজান মাসে কর্মীদের চাপমুক্ত রাখতে কমছে কর্মঘণ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৪

রমজান মাসে কর্মীদের চাপমুক্ত রাখতে কমছে কর্মঘণ্টা!

পবিত্র রমজান মাসে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য কাজের সময় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রমজান মাসে কাজের সময় দুই ঘণ্টা কমানো হবে।

খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাস উপলক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় কমানোর বিকল্প রয়েছে। পাশাপাশি যে কাজ ঘরে বসে করা যায় সেগুলোর বিষয়ে নমনীয় হওয়ার পরিকল্পনাও তাদের আছে।

আমিরাতের বেসরকারি খাতের কর্মীরা সাধারণত দিনে আট থেকে নয় ঘণ্টা কাজ করে। রমজান মাসে এই সময় দৈনিক দুই ঘণ্টা করে কমানো হবে। কমানোর পর এই সময়সূচির বাইরে কেউ অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর জন্য কর্মীরা অতিরিক্ত মজুরি পাবেন।

দুবাই ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) প্রকাশিত হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে, রমজান সম্ভবত ১২ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হবে।

পবিত্র মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কৃতি অনুশীলনে মুসলিমদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে কর্মঘণ্টা কমানো রোজাদার ও যারা রোজা থাকে না, উভয় কর্মীর জন্য প্রযোজ্য।

ফেডারেল অথরিটি ফর গভর্নমেন্ট হিউম্যান রিসোর্সেস (এফএএইচআর) ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের জন্য পবিত্র রমজান মাসে অফিসিয়াল কাজের সময় নির্ধারণ করে একটি সার্কুলার জারি করেছে।


পাবনায় ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে নারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাবনায় ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে নারী আটক

পাবনার বেড়া উপজেলার পেচাকোলা ঘাট এলাকায় সম্প্রতি একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও তা তৈরির ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে নকল দুধ তৈরির দায়ে পলি ঘোষ নামের এক গৃহবধূকে আটক করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তম ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষ নিজেদের বাড়িতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ক্ষতিকারক সামগ্রী ব্যবহার করে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে বড় ডেগে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নকল দুধ উদ্ধার করে। এ ছাড়া নকল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পাম অয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেগ ক্রিম ও একটি ব্লেন্ডার মেশিন জব্দ করা হয়।

অভিযানের সময় মূল হোতা উত্তম ঘোষ পালিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলি ঘোষ স্বীকার করেন যে, তিনি ও তাঁর স্বামী নিয়মিতভাবে এসব ক্ষতিকর উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করতেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামত এবং আসামির স্বীকারोক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এই নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত নারী তাঁর অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় এবং তাঁর ঘরে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ি থাকায় মানবিক দিক বিবেচনা করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৫

ফ্রান্সে জরিমানা গুনলেন বাংলাদেশি অভিবাসী

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করার দায়ে এক বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীকে অর্থদণ্ড দিয়েছে দেশটির ব্রেস্ট শহরের একটি আদালত। ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ফরাসি গণমাধ্যম ওয়েস্ট ফ্রন্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পাড়ি দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয়ের খোঁজে ফ্রান্সে এসেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন।

যদিও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে সাক্ষাৎকারে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমানে তার আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ওই বাংলাদেশি অভিবাসী ২০২৪ সালের ১২ জুলাই অন্য তিনজন অভিবাসীর সঙ্গে একটি ট্রাকের পেছনে লুকিয়ে ফ্রান্সে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রোস্কফ শহরে সীমান্ত পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন।

ট্রাকটি যুক্তরাজ্য থেকে আসছিলো। চালক ছিলেন রোমানিয়ার নাগরিক। তদন্তকারীদের চালক বলেছিলেন, এক পাচারকারীর চাপে পড়ে অভিবাসীদের ফ্রান্সে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছিলেন তিনি। এজন্য তাকে আটশো ইউরো দেওয়া হয়েছিলো।

অনিয়মিত প্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক আদালতে বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ার কারণে নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছেড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার ধর্মের কারণে ঝুঁকিতে ছিলাম। আমি এখানে শান্তিতে বাঁচতে চাই। বর্তমানে ওই ব্যক্তি বৃহত্তর প্যারিসের সারসেল শহরে একটি এনজিওর সহায়তায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তার ফ্রান্সের কাজের অনুমতি না থাকায় তিনি এখনও কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেননি।

ব্রেস্ট শহরের আদালত তার অনিয়মিত প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিলেও আপাতত কঠোর শাস্তি আরোপ করেনি।

বরং মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে শর্ত সাপেক্ষে ১৫০ ইউরো অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে আর কোনো ফৌজদারি অপরাধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলে তাকে এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে না।

কিন্তু শর্ত ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে কঠিন জরিমানার মুখোমুখি করা হতে পারে।

ইতালি, ব্রিটেন ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অনিয়মিত উপায়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে সাধারণত জরিমানা আরোপ করে থাকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রোতাইয়ো অনিয়মিতভাবে ফ্রান্সে প্রবেশ ছাড়াও বসবাসকেও অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করতে চান বলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখ করেছেন।

২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সে অনিয়মিত উপায়ে বসবাস করা আইনিভাবে সাজার আওতাধীন ছিল।

পরবর্তীতে সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া অলান্দ এ ব্যবস্থাটি বাতিল করে নতুন অভিবাসন আইনের অনুমোদন দিয়েছিলেন। এখনও সেই সিদ্ধান্তটি বহাল রয়েছে।

ডান এবং অতি ডানপন্থিরা অনুমোদনবিহীন বসবাসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কথা বলে আসছে।

ফ্রান্সের ডানপন্থি সংসদ সদস্যরা ২০২৪ সালের জানুয়ারির অভিবাসন আইনে এই ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাংবিধানিক কাউন্সিল তা বাতিল করে দিয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়।

এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জরিমানা এবং ফরাসি ভূখণ্ড থেকে বিতাড়নের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে জরিমানা আরোপ নিয়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি পরে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস