?> মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে? | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মানসিক রোগের ওষুধ নিয়ে এই ৫টি ভুল ধারণা আপনার মধ্যেও আছে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য এবং এর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে এখনো নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার রয়ে গেছে। অনেকেই মনে করেন মানসিক অসুস্থতা মানেই কোনো বড় ধরনের অস্বাভাবিকতা বা দুর্বলতা, যা আদতে সত্য নয়। শারীরিক রোগের মতো মানসিক সমস্যাও যেকোনো মানুষের জীবনে দেখা দিতে পারে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই রোগগুলোর প্রকৃত কারণ বুঝতে ব্যর্থ হন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মানসিক রোগের মূল কারণ হলো মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতা। আমাদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই রাসায়নিক উপাদানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন কোনো কারণে এই স্বাভাবিক ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তখনই বিভিন্ন মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

অনেকেরই ধারণা থাকে যে মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো কেবল নেশা তৈরি করে বা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। আধুনিক মানসিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো মূলত মস্তিষ্কের সেই ভারসাম্যহীন রাসায়নিক উপাদানগুলোর মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করলে রোগীরা ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।

তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভীতি বা লুকোচুরি না করে সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে কাউন্সেলিং ও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করলে রোগীরা স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবন ফিরে পেতে পারেন। সমাজ থেকে এই ধরনের ভুল ধারণা ও কুসংস্কার দূর করতে হলে ব্যাপকভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে রোগীরা কোনো রকম সামাজিক সংকোচ ছাড়াই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।

রূপসায় ছেলের পর এবার বাবাকেও মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

রূপসায় ছেলের পর এবার বাবাকেও মেরে ফেলল দুর্বৃত্তরা

খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনীমহল এলাকায় মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আকতার ঢালী নামের ষাট বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। সন্ধ্যার পর নিজ বাড়ির পাশের একটি স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। আকতার ঢালী দীর্ঘদিন ধরে ঘাটের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে পারিবারিক নানা ঘটনার পর তিনি সাধারণত বাড়িতেই সময় কাটাচ্ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে আকতার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকেও একইভাবে গুলি করে এবং কুপিয়ে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। ছেলের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই এবার পিতা নিজেই খুন হলেন। স্বজনরা জানান, ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজ শেষ করে বাড়ির কাছের একটি বেঞ্চে গিয়ে বসেন আকতার ঢালী। সাধারণত সেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার আড্ডা হতো, তবে ওইদিন কেউ না থাকায় তিনি একাই বসেছিলেন।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। দ্রুত ঘর থেকে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, আকতার ঢালী বেঞ্চের পাশে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করে রূপসা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ আনোয়ার জানিয়েছেন, কেন এবং কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।


মাদ্রাসায় নিয়োগের বৈঠক ইটভাটায়, ঘুষের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

মাদ্রাসায় নিয়োগের বৈঠক ইটভাটায়, ঘুষের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে বড় অংকের ঘুষ নিয়ে গোপনে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় শূন্য পদে লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছুটির দিনে মাদ্রাসার ভেতরে বহিরাগত ও চাকরিপ্রার্থীদের সন্দেহজনক উপস্থিতি লক্ষ্য করে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন যে কোনো ধরনের দৃশ্যমান প্রকাশনা বা প্রচার ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে একটি নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পাঁয়তারা চলছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং অধ্যক্ষ যোগসাজশ করে অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছিলেন। স্থানীয়দের একটি সূত্র দাবি করেছে যে, ল্যাব সহকারী, অফিস সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে মোট পাঁচজনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনে এমন গোপন তৎপরতা এবং লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং স্থানীয়দের কড়া প্রতিবাদের মুখে নিয়োগ কমিটির সদস্যরা তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মাঝপথে বাতিল না করে তারা ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সাতকুড়া এলাকার একটি স্থানীয় ইটভাটায় গিয়ে মিলিত হন। সেখানে বসে অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তারা নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও সভার বাকি কাজ শেষ করেন। পরবর্তীতে বিকেলে ওই ইটভাটার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট পাঁচটি শূন্য পদে নতুন লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য নুরুন্নবী বাসার অভিযোগ করে জানান যে, এই নিয়োগ পরীক্ষা বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে বিন্দুমাত্র জানানো হয়নি। এর আগেও একই কায়দায় গোপনে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা মোবাশ্বের রাশেদিন দাবি করেন যে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের পরই ১৭ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে পাঁচজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় লোকজনের হট্টগোল ও বাধার মুখেই তারা বাধ্য হয়ে ইটভাটায় বসে পরবর্তী আলোচনা ও সমন্বয় করেছেন বলে জানান।


শিক্ষক নিয়োগে কেন ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠন করা দরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগে কেন ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠন করা দরকার

একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। আর এই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পেছনে মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরা, যারা শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবশক্তিতে রূপান্তর করে দেশ গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। অথচ দীর্ঘকাল ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার মান অর্জনে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শিক্ষা খাতের এই দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও সংকট কাটাতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ 'শিক্ষা সার্ভিস কমিশন' গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্তরে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের পরিধি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক tuyển প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক সময় শূন্য পদগুলো সময়মতো পূরণ করা সম্ভব হয় না, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর। তাছাড়া, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা সঠিক সময়ে পেশায় প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এই প্রেক্ষাপটে, বিসিএস পরীক্ষার আদλε একটি বিশেষায়িত কমিশন গঠন করা হলে শিক্ষকতা পেশায় মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, অন্যান্য পেশার মতো শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশার জন্যও আলাদা একটি সাংবিধানিক বা স্বতন্ত্র কমিশন থাকা আবশ্যক। এই ধরনের কমিশন গঠিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক কিংবা অন্য কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না। ফলে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কেবল প্রকৃত মেধাবীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।

একটি যুগোপযোগী ও কার্যকর শিক্ষা সার্ভিস কমিশন প্রতিষ্ঠিত হলে তা কেবল নিয়োগ প্রক্রিয়াই গতিশীল করবে না, বরং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সাহায্য করবে। দেশ ও জাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সচেতন মহলের।