?> নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে চড়া ইলিশের বাজার | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে চড়া ইলিশের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার আগে চাঁদপুরে চড়া ইলিশের বাজার

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে চাঁদপুরের বাজারে রুপালি ইলিশের দাম আকস্মিক বেড়ে গেছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সপ্তাহে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম বেড়ে এখন তিন হাজারে ঠেকেছে। স্থানীয় বাজারে আসা মাত্রই ক্রেতাদের ভিড়ে এসব মাছ দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে চাহিদা ব্যাপক থাকলেও সেই তুলনায় পর্যাপ্ত জোগান মিলছে না।

চাঁদপুরের বহরিয়া ও হরিণা মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাজারে মূলত সর্বোচ্চ ৫০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের আধিক্য রয়েছে। এসব ছোট আকারের ইলিশ হালিপ্রতি তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা এবং একটু বড়গুলো দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নদী থেকে বরফ লাগানোর আগেই তা সরাসরি ক্রেতাদের হাতে চলে যাচ্ছে এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলছে।

স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ঘাটে মাছের আমদানি কিছুটা কমলেও দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড় সামলানো যাচ্ছে না। জেলে হান্নান গাজী ও নজরুল ইসলাম জানান, জালে ময়লা আটকে যাওয়া এবং আগস্ট মাসে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় এ পর্যন্ত কেবল তাদের ব্যবসার খরচটুকুই উঠে এসেছে। আড়তদার মো. ইদ্রিস আলী ও বিক্রেতা জাহাঙ্গীর সৈয়াল উল্লেখ করেন, চাঁদপুরের ইলিশের দেশজোড়া সুনাম থাকায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সবসময়ই কম থাকে।

আসন্ন নিষেধাজ্ঞা ও ইলিশের বংশবৃদ্ধি প্রসঙ্গে সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, আগামী আট থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট বাইশ দিন অভয়াশ্রম এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, জেলেরা এবার কম-বেশি ভালো ইলিশ পেয়েছেন এবং মা ইলিশকে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে শেষ পর্যন্ত জেলেরাই এর সুফল ভোগ করবেন। তবে এই আইন অমান্যকারীদের জন্য কঠোর জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।

কীটনাশক আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনে চার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কীটনাশক আমদানির নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনে চার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা

দেশের কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিশাল বাজারের প্রায় পঁচানব্বই শতাংশই আমদানিনির্ভর বলে এক আলোচনা সভায় জানানো হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বামা এই তথ্য প্রকাশ করে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে কৃষকদের কীটনাশক ব্যবহারের এই বাজারের আর্থিক আকার প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, নির্দিষ্ট অর্থবছরে দেশে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার নয়শো মেট্রিক টন কীটনাশক আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ শতাংশ ছিল সক্রিয় উপাদান বা কাঁচামাল এবং বাকি প্রায় এক লাখ নয়শো মেট্রিক টনই ছিল সরাসরি তৈরি পণ্য। বর্তমানে দেশের দুই ডজনের মতো প্রতিষ্ঠান সক্রিয় উপাদান এনে কীটনাশক বানালেও দেড় হাজারের অধিক আমদানিকারক তৈরি পণ্য এনে ব্যবসা করছেন।

বামা মনে করে, বিদেশ থেকে তৈরি কীটনাশক আমদানির পরিবর্তে সক্রিয় উপাদানের হার পাঁচ থেকে বাড়িয়ে পঁচিশ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশে স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় চাহিদার প্রায় আটানব্বই শতাংশ পূরণ করা যেতে পারে। কাঁচামাল আমদানি করে দেশে উৎপাদন করলে পরিবহন খরচসহ সামগ্রিক দিক থেকে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কনটেইনার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা প্রায় পঁচাত্তর শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। এতে প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ লাখ ডলারের বেশি পরিবহন খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। এভাবে কৃষির এই খাতে পরনির্ভরশীলতা কমানো গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৪

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

বার্তাবেলা ডেস্ক: ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ৩৫ মিনিটে মেলাপ্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন করবেন তিনি।

রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পণ্য উন্নয়ন ও পণ্যের বহুমুখী বাজার সৃষ্টিকরণ। আর পণ্যের বাজার সৃষ্টিকরণের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

মেলার ২৫টি পর্ব আয়োজিত হয়েছে শের-ই-বাংলা নগরের উন্মুক্ত মাঠে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার জন্য নির্মিত স্থায়ী ভেন্যু বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারে (বিবিসিএফইসি) ডিআইটিএফ-২০২২ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। এই স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সে তৃতীয়বারের মতো হচ্ছে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা-২০২৪। চীনের অর্থায়নে পূর্বাচলে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর এখানেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার আসর বসবে।

ইপিবি জানিয়েছে, এবারের বাণিজ্যমেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইরান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেবে। মেলায় এসব দেশের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া/আর্টিফিসিয়াল চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারি ওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি পণ্য মেলায় প্রদর্শিত হবে। পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানির বড় বাজার খোঁজার লক্ষ্য রয়েছে। আগের মতো মেলাটি মাসব্যাপী সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত।

এবার মেলায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য মেট্রোরেল ও এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ফার্মগেট থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে উত্তরা বা মতিঝিল থেকে যারা মেলায় আসবেন তারা মেট্রোরেল এসে ফার্মগেট থেকে বাসে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সোজা মেলায় চলে আসতে পারেন সেই সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা পর্যন্ত বিআরটিসি ও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসের ডেডিকেটেড সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন এ বাস সার্ভিস চালু থাকবে। এবারের বাণিজ্যমেলার লে-আউট প্ল্যান (সংশোধিত) অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়ন, রেস্টুরেন্ট ও স্টলের মোট সংখ্যা ৩৫১টি।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তা এবং আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণার্থে মেলাপ্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও র্যাব নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সার্ভিস গেট ও ভিআইপি গেটের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হয়েছে। নিরাপত্তা অগ্রাধিকার বিবেচনায় মেলাপ্রাঙ্গণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, পার্কিং এরিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া মেলার প্রবেশপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইভাবে যে কোনো ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড।

মেলার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য মেলায় স্থাপন করা হয়েছে একটি অস্থায়ী সচিবালয়। দর্শনার্থীদের সব প্রকার তথ্য প্রদানের জন্য রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকছে ডাচ্-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকের একাধিক বুথ। এছাড়া মেলায় থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের সার্ভিস বুথ। মেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। মা ও শিশুদের কথা বিবেচনা করে মেলায় স্থাপন করা হয়েছে দুটি মা ও শিশুকেন্দ্র। অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড অটিজম সেবা, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার বেঞ্চ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপণ করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস সবার কাছে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরারও প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ছাড়াও সম্পর্কিত বই এবং তার জীবন ও কর্মভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিতে রাজবাড়ীর কৃষকদের মাঝে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কা

রাজবাড়ী জেলার কৃষকেরা মাঠে ফসল ফলানোর খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং বিক্রির সময় সঠিক দাম না পাওয়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। পদ্মা নদীর পলিমাটিতে উর্বর এই অঞ্চলে ধান, পাট ও বিভিন্ন সবজি আবাদ করা হলেও সম্প্রতি সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়েছে। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সেচ ও শ্রমিকের মজুরি পর্যন্ত প্রতিটি ধবেই বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে জেলার বিস্তীর্ণ মাঠে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং তিনশ হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম সবজির আবাদ করা হয়েছে। তবে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বিশ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের সময় সার ও কীটনাশক সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেক কৃষক।

একজন নারী কৃষক তাঁর বক্তব্যে জানান, সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও জ্বালানির চড়া দামের কারণে এ বছর খরচ অনেক বেশি হচ্ছে অথচ বিক্রির সময় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি সরকারের কাছে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারদর না পেলে তাঁরা পরবর্তী সময়ে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে রাজবাড়ীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরিয়া, ডিএপি, পটাশ ও টিএসপি সার মজুত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং কিছু এলাকায় উচ্চমূল্যে সার বিক্রির ঘটনায় ইতিমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে সার কেনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগের নজরদারি সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের বড় উদ্বেগ রয়ে গেছে উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো এবং কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।