?> পাবনায় ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে নারী আটক | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

পাবনায় ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে নারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনায় ক্ষতিকর উপাদান মিশিয়ে নকল দুধ তৈরির দায়ে নারী আটক

পাবনার বেড়া উপজেলার পেচাকোলা ঘাট এলাকায় সম্প্রতি একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল দুধ ও তা তৈরির ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বেড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান। স্থানীয় থানা-পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানে নকল দুধ তৈরির দায়ে পলি ঘোষ নামের এক গৃহবধূকে আটক করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তম ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষ নিজেদের বাড়িতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ক্ষতিকারক সামগ্রী ব্যবহার করে ভেজাল দুধ তৈরি করে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে বড় ডেগে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নকল দুধ উদ্ধার করে। এ ছাড়া নকল দুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত পাম অয়েল, ব্লিচিং পাউডার, কেমিক্যাল জেল, খাবার সোডা, গরম ছানার পানি, এক ডেগ ক্রিম ও একটি ব্লেন্ডার মেশিন জব্দ করা হয়।

অভিযানের সময় মূল হোতা উত্তম ঘোষ পালিয়ে গেলেও তাঁর স্ত্রী পলি ঘোষকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পলি ঘোষ স্বীকার করেন যে, তিনি ও তাঁর স্বামী নিয়মিতভাবে এসব ক্ষতিকর উপকরণ মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করতেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামত এবং আসামির স্বীকারोক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান জানান, জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে এই নকল দুধ তৈরি করা হচ্ছিল। অভিযুক্ত নারী তাঁর অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় এবং তাঁর ঘরে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ও বৃদ্ধ শাশুড়ি থাকায় মানবিক দিক বিবেচনা করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি। জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং নকল দুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

প্রাণিচিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রাণিচিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন? যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখুন

পরিবারের প্রিয় সদস্যের মতো পোষা প্রাণীটিকেও মাঝে মাঝে অসুস্থতার কারণে প্রাণিচিকিৎסকের কাছে নিয়ে যেতে হয়। তবে ক্লিনিকে রওনা দেওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যা আপনার ও আপনার পোষা প্রাণীর উভয়কেই স্বস্তি দেবে। রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের বিশ্বাস ভেটেরিনারি কেয়ারের প্রাণিচিকিৎসক ডা. সুশ্যাম বিশ্বাসের পরামর্শ অনুযায়ী, ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের সেবাদানের সময়সূচি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া প্রাণীর টিকার কার্ড, আগের চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র এবং আনুমানিক খরচের ধারণা সঙ্গে রাখা উচিত, যাতে ক্লিনিকে গিয়ে কোনো ধরণের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়।

যানবাহনে যাতায়াতের সময় পোষা প্রাণী বহুদিনের চেনা হলেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। রাস্তার হর্ন বা কোলাহলে তারা ভয় পেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে, তাই বিড়াল বা ছোট আকર્সের প্রাণীর জন্য আরামদায়ক ক্যারিয়ার বা ঝুড়ি ব্যবহার করা ভালো। বড় কুকুরের ক্ষেত্রে গলায় কলার পরিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গণপরিবহনে অন্য যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। খরগোশ জাতীয় সংবেদনশীল প্রাণী খুব দ্রুত ভয় পায় বিধায় সেগুলোকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বহন করা সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল এবং যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় পানি ও কাপড় সঙ্গে রাখা উচিত।

চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর রোগ সংক্রমণ রোধে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রাণীর মধ্যে কোনো সংক্রামক রোগের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে অন্য প্রাণীদের থেকে দূরে রাখতে হবে এবং ক্লিনিকে প্রবেশের আগেই বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। ক্লিনিকের ভেতরে অন্য কোনো অপরিচিত প্রাণী স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন এবং নিজের পোষা প্রাণীটিকেও অন্যদের স্পর্শ করা নিষেধ করুন। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করা এবং বাসায় ফেরার পর ব্যবহৃত ঝুড়ি, ব্যাগ ও পোশাক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলা উচিত।

চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে পর্যাপ্ত ধৈর্য ধারণ করা এবং শান্ত থাকা সবার জন্যই মঙ্গলজনক। প্রাণীরা কথা বলতে পারে না বলে তাদের সঠিক রোগ নির্ণয় করতে চিকিৎসকদের কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে অযথা তাড়া দেওয়া উচিত নয়। রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা অন্যান্য চিকিৎসার প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে বিধায় অন্যান্য সেবাপ্রার্থীদের প্রতিও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখা প্রয়োজন। কোনো বিষয়ে অসন্তুষ্টি তৈরি হলে চিৎকার বা গোলমাল না করে শান্তভাবে ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত, যাতে কোনো প্রাণী ভয় না পায়।


পাবনার ফরিদপুরে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দুই কসাইয়ের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর, ২০২৬

পাবনার ফরিদপুরে অসুস্থ গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দুই কসাইয়ের কারাদণ্ড

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহনের সময় হাতেনাতে আটক হয়েছেন দুই কসাই। সম্প্রতি পুলিশ নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামিয়ে এই পচা ও রোগাক্রান্ত মাংস উদ্ধার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন লঙ্ঘন ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে তাদের উভয়কে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার বেড়হাউলিয়া পূর্বপাড়া কাশেমের বটতলা এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি চলছিল। এ সময় সাঁথিয়াগামী একটি অটোরিকশার ভেতর থেকে পলিথিনে মোড়ানো প্রায় চার মণ ওজনের চামড়া ছাড়ানো গরুর খণ্ডিত দেহাংশ জব্দ করা হয়। পরে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা কসাইয়ের পেশার কথা স্বীকার করেন।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার রবিন প্রামাণিক ও মোলাই মাণিক ওরফে বাবর আলী। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার একটি গ্রাম থেকে ৪০ হাজার টাকায় তারা অসুস্থ গরুটি কিনেছিলেন। পরে সেটি জবাই করে মাংস বিক্রির জন্য সাঁথিয়া পৌর এলাকায় নিজেদের দোকানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যার সপক্ষে তাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুরুল হাসান মাসুদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জব্দকৃত মাংসসহ তাদের পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানিন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে এমন আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ও ফলপ্রসূ বলে মনে করা হচ্ছে।


সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে রাতে চলছে পাহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে গরু চুরি রোধে রাতে চলছে পাহারা

সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি গরু চুরির ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের গোয়ালঘর থেকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশত গবাদিপশু চুরি হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

চোরেরা যেন চুরি করা গরুগুলো খুব সহজে কোনো যানে করে পালিয়ে নিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা মিলে গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক এবং সংযোগস্থলে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দলবদ্ধভাবে পালাক্রমে সারা রাত জেগে এসব চেকপোস্টে অবস্থান করছেন এবং চলাচলকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা যানবাহনের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। তাড়াশের বাসিন্দা আলী আহসান জানিয়েছেন যে গবাদিপশু রক্ষা করতেই তাঁরা সম্মিলিতভাবে এই রাত জাগার কর্মসূচি পালন করছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে সফল করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর এবং রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহসানুজ্জামান জানিয়েছেন যে পুলিশ ও জনগণের যৌথ প্রচেষ্টায় অপরাধ দমনের এই কার্যক্রম চলছে।

জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু সম্প্রতি এই পাহারা এলাকাগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের উৎসাহ জোগাতে তাঁদের হাতে বাঁশি ও টর্চলাইট তুলে দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের বিশ্বাস, এই জনসচেতনতা ও চেকপোস্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই দুই অঞ্চলের অপরাধপ্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।