?> আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সংস্থাটির সঙ্গে সরকারের ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে চলতি বছরের মে মাস থেকেই আইএমএফের সঙ্গে এই নতুন ঋণ সহায়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঋণের পরিমাণ এবং এর সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এই ঋণ কর্মসূচি পেতে হলে আইএমএফের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো প্রধানত রয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েই বর্তমানে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকে সিলিন্ডারপ্রতি বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি সম্প্রতি এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূলত এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সাধারণ গৃহস্থালিতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে ভোক্তাদের এখন থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে এই রান্নার জ্বালানি কিনতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এমনিতেই মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, তার ওপর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

নজরদারি সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন এই বর্ধিত মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা জারির পর নির্দিষ্ট সময় থেকেই পুরো দেশজুড়ে এই নতুন দাম কার্যকর বলে গণ্য হবে। খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও এর ব্যত্যয় ঘটছে কি না, তা তদারকি করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। প্রতি মাসেই বিইআরসি আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে এলপিজির নতুন দাম সমন্বয় করে থাকে। তবে লাগাতার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন।


রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের অবস্থা: বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে বড় লোকসান, লাভে বিএসইসি

অর্থনীতি ডেস্ক: শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ও ব্যয়ের হিসাব পেশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, দেশের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন তাদের উৎপাদনের তুলনায় ব্যয় সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে লোকসানের বৃত্তে আটকে আছে। স্বাধীনতার পর থেকেই মূলত অধিকাংশ সরকারি কলকারখানা এই ধরনের লোকসানের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। তবে সার্বিক এই হতাশাজনক চিত্রের মাঝেও কিছু প্রতিষ্ঠান লাভের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বা বিএসএফআইসি সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই সংস্থার অধীন পরিচালিত বিভিন্ন চিনিকল এবং অন্যান্য ইউনিট মিলিয়ে করোত্তর বা কর পরিশোধের পরের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যা তাদের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলমান অডিট হিসাব অনুযায়ী, শুধু চিনিকলগুলোর পক্ষ থেকেই বিশাল অংকের এই লোকসান বহন করতে হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন বা বিসিআইসিও একই ধরনের আর্থিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক হিসাব বছরগুলোতে এই সংস্থার নিট লোকসানের পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরগুলোর তুলনায় তাদের লোকসানের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সার্বিকভাবে সরকারি শিল্প খাতের ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশ্ন তুলছে। লাগাতার এই লোকসান এবং ক্রমবর্ধমান ব্যাংকঋণের চাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এসব নেতিবাচক খবরের মধ্যেও কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন বা বিএসইসি। আলোচ্য অর্থবছরে এই সংস্থাটি লোকসানের ধারা ভেঙে মুনাফা অর্জন করতে পেরেছে। তাদের মোট আয় ব্যয়ের ব্যবধানে ইতিবাচক মুনাফা অর্জিত হওয়ায় সংসদীয় বৈঠকে এটিকে একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। এদিকে, সরকারি এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে এই শোচনীয় অবস্থা থেকে উদ্ধার করা যায় কিংবা কোনো বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে লাভজনক করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে নীতিনির্ধারক ও সংসদ সদস্যরা গভীরভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।


বিবিএসের প্রতিবেদন: খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৭.২২%, আরও বাড়ার শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিবিএসের প্রতিবেদন: খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৭.২২%, আরও বাড়ার শঙ্কা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে টানা দুই মাস কিছুটা কমার পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিক সাধারণ মূল্যস্ফীতি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। এর আগে আগস্ট ও জুলাই মাসে এই হার যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৬ ও ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পেছনে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি প্রধান ভূমিকা রাখছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক সূচকে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যালোচিত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল। তবে এর বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমেছে। এদিকে সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা আগের মাসে আট শতাংশের বেশি ছিল।

মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে এর প্রভাব কিছুটা বেশি অনুভূত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে শহর অঞ্চলে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খাত যেমন তৈরি পোশাক, জুতো, গৃহায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশ চড়া ছিল। এর মধ্যে পোশাক ও পাদুকা খাতে মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়ে গেছে দশ শতাংশের ঘর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দামের পূর্ণ প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোর হিসাবে আরও জোরালোভাবে দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে আগামীতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।