?> বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি ‘অলীক স্বপ্ন

দীর্ঘদিন গতিহীনতা, সংকোচন ও আস্থাহীনতার মধ্যে দিয়ে চলছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার। এই প্রেক্ষাপটে বহুদিনের দাবি- বহুজাতিক কোম্পানিসহ শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা। তবে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি এখনো সেই ‘অলীক স্বপ্ন’।

বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি তরলতা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারের গতি ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি ভালো কোম্পানি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের আন্তরিকতার অভাবে এ উদ্যোগ সফল হচ্ছে। শেয়ারবাজারের মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে পরামর্শ দেন। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল এ সরকারের মেয়াদে হয়তো দু-একটি ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো আগের মতোই।

গত বছরের ১১ মে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে তার সভাপতিত্বে পুঁজিবাজারের সঠিক অবস্থা পর্যালোচনা ও উন্নয়নে করণীয় নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত করাসহ বেশকিছু নির্দেশনা দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করেছে। সবশেষ গত ৭ জানুয়ারি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড, সিনোভিয়া বাংলাদেশ লিমিটেড, নোভার্টিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং নেসলে বাংলাদেশ পিএলসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, বৈঠকে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে দায়সারা উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— তালিকাভুক্তির বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, বোর্ডে আলোচনা না করে তাদের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। তাদের কথার ধরন দেখে মনে হয়েছে, তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক মনোভাব পাওয়া গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, শেয়ারবাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্য আমরা প্রাথমিকভাবে ১০টি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সরকারের শেয়ার থাকা বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সে লক্ষ্যেই ১০টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণ করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের মনোভাব দেখে মনে হয়েছে তারা তালিকাভুক্ত হতে চায় না।

তারা যে ধরনের কথা বলে, তা দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়া মনে হয়েছে। এই সরকারের আমলে অর্থাৎ, আগামী দেড়-দুই মাসে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে বলে মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি অতীতের মতোই একটি সাধারণ আলোচনা সভা হয়েছে। বাস্তবে এর কোনো ফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে, তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতা বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।- ডিএসই পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারি

দেশে ব্যবসা করা অনেক বহুজাতিক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসছে না, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রিচার্ড ডি রোজারিও বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘যে সব বহুজাতিক কোম্পানি ব্যবসা করে এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে আয় করছে তাদের দায়বদ্ধতা আছে এই দেশের মানুষকে তার মালিকানার অংশ কিছুটা দেওয়া। এই দায়বদ্ধতার বাইরের দেশে আইন করে করা হয়েছে, আমাদের দেশেও যদি প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে আইন করে এটা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আলাপ হতে পারে সেটা ১০-২০ শতাংশ হবে। কিন্তু তাদের বাধ্যতামূলক শেয়ারবাজারে আসতে হবে, এই নিয়ম করা উচিত। এক্ষেত্রে সরকার কীভাবে এ পদক্ষেপ নেবে, সে পরিকল্পনা করতে হবে। অতীতে সরকার কখনোই এ পদক্ষেপ নেয়নি। অনেকেরই মনের মধ্যে ভয় ছিল যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে হয়তো সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ, এখানে ব্যবসা আছে বলেই তো তারা এসেছে। ব্যবসা থাকলে সে সব নিয়ম-কানুন মেনেই আসবে, এটা নিয়ে এত চিন্তা করার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সরকারি ভালো কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘অতীতে সরকারি শেয়ারগুলো আসেনি, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি। আমার যেটা মনে হয়— এখানে (সরকারি প্রতিষ্ঠানে) যারা স্বাধীন পরিচালক হন তারা রাজনৈতিক লোকজন। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে তারা বোর্ডের বাইরে অন্য কোনোভাবে সুবিধা পান। এ কারণে তাদেরও একটা আপত্তি থাকে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার শেয়ারবাজারে আনার ক্ষেত্রে। এখন যেহেতু একটা অরাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, সুতরাং আমি মনে করি এই সরকারের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে আনা সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা (সরকারি ভালো প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হলে) করলে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাবেন তা কিন্তু নয়, সরকারও লাভবান হবে। সুতরাং, অবশ্যই সরকারের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমি মনে করি নির্বাচিত সরকার আসার আগেই এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বর্তমান সরকারের কাজ করা উচিত।’

১০টি সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত হলে বাজার কীভাবে উপকৃত হবে? এমন প্রশ্ন করলে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘আলোচনা মাধ্যমে কিছু হবে বলে মনে হয় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক যে এই সরকারের সময় একটা শেয়ারও বাজারে আসেনি। বহুজাতিক ও সরকারি ফান্ডামেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্ত করতে পারলে শেয়ারবাজারের অনেক উপকার হতো।

সরকারি ভালো কোম্পানিগুলো কেন শেয়ারবাজারে আসে না? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে একটা সমস্যার, যারা এই কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে থাকেন তারা চান না। বড় সমস্যা হচ্ছে সরকারি যেসব কর্মকর্তা এসব কোম্পানিতে আছেন, তারা চান না এগুলো শেয়ারবাজারে আসুক। হয়তো তারা এসব কোম্পানি থেকে অন্য কোনো সুবিধা পান, তালিকাভুক্ত হলে সেই সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।’

আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।- আইসিবি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ

সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কীভাবে দেশের শেয়ারবাজারে আনা যায়? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি মৌলভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে না আসা এক ধরনের বৈষম্য। এ বৈষম্য থেকে বের হওয়ার জন্য আমরা বলছি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার জন্য। এক্ষেত্রে একটাই পদক্ষেপ, তা হলো সরকারি সিদ্ধান্ত। সরকার আন্তরিকভাবে চাইলেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব।’

গত ৭ জানুয়ারি বহুজাতিক ও সরকারি ১০টি কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়— বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিষয়ে বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, ওখানে (বহুজাতিক কোম্পানিতে) আমাদেরও (সরকারের) শেয়ার আছে, কিন্তু তালিকাভুক্ত নয়। ওরা বলেছে ওদের সিদ্ধান্ত বোর্ড ছাড়া হবে না। তবে সরকার থেকে আমরা সম্মতি দিয়েছি।

এ বিষয়ে তো আগেও আলোচনা হয়েছে। এমন কথা বলা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগে এত দূর যায়নি। এবার মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। এগুলো জটিল। কোম্পানি আইনকে তো আমরা উপেক্ষা করতে পারি না।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘সরকার চাচ্ছে পাবলিক ইন্টারেস্টে। পাবলিক ইন্টারেস্টের চেয়ে কোনো বড় ইন্টারেস্ট কারও নেই। নেসলে যদি বোম্বেতে লিস্টেড থাকতে পারে, আমাদের এখানে সমস্যাটা কী? ইউনিলিভার জিএসকের অংশ তালিকাভুক্ত, কিন্তু তাদের মূল অংশ তালিকাভুক্ত নয়। কিন্তু বোম্বেতে টপ টেনের মধ্যে আছে। পাকিস্তানে আছে, থাইল্যান্ডে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তারা যদি কিছু ইনসেনটিভ চায়, করছাড় চায়, সেটা দেওয়া হোক। আর যদি না আসে, তাহলে কর বাড়িয়ে দিতে হবে। ভেরি সিম্পল। তা না হলে আরও বহুদিন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইউনিলিভারে সরকারের ৪০ শতাংশের মতো শেয়ার আছে। এই ৪০ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশও ছাড়তে চায় না। আমি বলি আমার সরকারি শেয়ারও বেচতে পারবে না? ওরা বলে বিদেশে ওদের বোর্ড মিটিং লাগবে।’

বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ ১২০ বছরের কার্যক্রমের পর বাংলাদেশে নিজেদের ভোক্তা বা রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা হাতবদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সম্প্রতি ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বা ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই খাতের পণ্যতালিকার মধ্যে রয়েছে সাধারণ আমানত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিভিন্ন ঋণ, গাড়ি ও গৃহঋণের সুবিধা, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের সেবা, পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ও ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম। ব্যাংকটির বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রধানত উচ্চ সক্ষমতা ও সুবিধা রয়েছে এমন খাতগুলোতে মূলধন ও মনোযোগ বাড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই ব্যবসার প্রতি ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এই ব্যবসা অর্জনের দৌড়ে রয়েছে। এই ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিপুল পরিমাণ কম খরচের আমানত। ব্যাংকটির এই ব্যবসায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে, যার একটি বড় অংশের সুদহার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেখানে প্রচলিত দেশীয় ব্যাংকগুলোকে অনেক বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হয়, সেখানে এই কম সুদের তহবিল এবং সমৃদ্ধ গ্রাহক ভিত্তি পাওয়ার সুযোগ স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।

ব্যবসা হস্তান্তরের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী এতে প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশে তাদের সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক কিংবা কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের মূলধন প্রবাহ এবং অবকাঠামোগত অর্থায়নে ব্যাংকটির বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা হবে।

এই বিশাল ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার কর্মীকেও নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে যুক্ত করার একটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকটির মোট ১ হাজার ৯০০ কর্মীর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনই রিটেইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া এই ব্যবসার আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৮টি শাখা, বিভিন্ন ধরনের খুচরা ঋণ এবং কার্ড সেবা পরিচালিত হয়, যার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবসা চূড়ান্তভাবে বিক্রি হলে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য একসঙ্গে বড় অঙ্কের আমানত, ঋণ পোর্টফোলিও এবং অভিজ্ঞ জনবল অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি হবে। তবে লেনদেনের মূল্যায়ন, কর্মীদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিখুঁতভাবে হিসাব করেই আগ্রহী ব্যাংকগুলো এগোচ্ছে।


চার দিন পর কমল সোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

চার দিন পর কমল সোনার দাম

দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু সোনার দাম কিছুটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে দেশের ক্রেতারা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে পারবেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকায়। নতুন এই মূল্যতালিকা সোমবার সকাল থেকে সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেটের সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছিল, যা এতদিন বাজারে বলবৎ ছিল।

সোনার দাম হ্রাসের সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক bullion বা তেজাবি সোনার বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী। বিশ্ববাজারের এই পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনার বিক্রয়মূল্য কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দামের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত বাজুস নিয়মিতভাবে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করে থাকে। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিকতায় দেশের ক্রেতাদের স্বস্তি দিতেই দাম কমানোর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের সোনার দামেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা প্রতি ভরি। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম কমিয়ে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সোনার দাম কমলেও রুপার বাজারে পূর্বের দামই বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন গ্রেডের রুপা আগের নির্ধারিত হারেই বিক্রি হচ্ছে।

বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্রেতাদের অলংকার কেনার সময় ডিজাইনের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট মজুরি পরিশোধ করতে হবে। তবে সরকার নির্ধারিত ভ্যাট বিক্রয়মূল্যের সঙ্গেই যুক্ত থাকায় কোনো অবস্থাতেই গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া ব্যবহৃত অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিয়ে মূল্য হিসাব করতে হবে। পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম ও দাম বলবৎ থাকবে।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় আবারো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কায় আবারো ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর কিছুটা নিম্নমুখী থাকা মূল্যস্ফীতির সূচক ফের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়ে আট দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

চলতি অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকেই মূল্যস্ফীতির হার ক্রমান্বয়ে কমতির দিকে ছিল, যা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল। অর্থবছরের সূচনা মাস জুলাইয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছিল আট দশমিক ৩২ শতাংশে, যা ছিল বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন একটি স্তর। এরপর আগস্ট মাসে এই সূচক আরও কিছুটা হ্রাস পেয়ে আট দশমিক ২৬ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। ফলে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন যে মূল্যস্ফীতির এই নিম্নমুখী ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।

তবে সেপ্টেম্বর মাসে এসে মূল্যস্ফীতির সেই ইতিবাচক ধারায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে এবং সূচক আবারও উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে। এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক শূন্য আট শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে আট দশমিক ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যপণ্যের বাজারদর বেড়ে যাওয়ায় মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাসের শেষভাগে এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী ধাক্কায় মূল্যস্ফীতির কমার গতি হঠাৎ থেমে গেছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায়। তার মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব কেবল সেপ্টেম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আগামী কয়েক মাস ধরে বাজারে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমার কোনো জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন না এই অর্থনীতিবিদ।