?> ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ডলার তুলে নেওয়া ‘স্বল্পমেয়াদে স্বস্তি, দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি

বাজারে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ডলার সংগ্রহ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্য ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত ডলার তুলে নিচ্ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ বাড়ছে।

তবে এই নীতি নিয়ে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্নমত। স্বল্পমেয়াদে এটি স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাথায় রাখতে হয়। উদাহরণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ১০ বছর বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করে, তাহলে শুধু যন্ত্রপাতি নয়-কাঁচামাল, উৎপাদন পরিকল্পনাসহ নানা বিষয় আগেই নিশ্চিত করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, এই মুহূর্তে হয়তো ডলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে, কিন্তু সামনে যে বাড়তি চাহিদার চাপ আসবে সেটি কতটা সামাল দেওয়া যাবে—তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কেনা নিয়ে লাভ–ক্ষতির রেকর্ড তোলার কোনো সুযোগ নেই। এটি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নয় যেখানে খরচ করে লাভ দেখানো যায়। বরং অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির চাপে বিনিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।- বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর নতুন মেশিনারি আমদানি করলে কাঁচামালসহ নানা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হয়। বর্তমানে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও সামনে বাড়তি চাহিদার চাপ কতটা সামাল দেওয়া যাবে-তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’

ডলার কেনায় ক্যাশ মার্কেটে প্রভাব পড়ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি বাজার থেকে ডলার কেনে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ডলার রেখে অতিরিক্ত অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করে। ব্যাংকগুলোর ডলার ধারণের একটি সীমা রয়েছে এবং নেট ওপেন পজিশনের বাইরে গিয়ে তারা ডলার ধরে রাখতে পারে না।’

ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মনে করছে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার না তুলতো এবং ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে যেত, তাহলে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যেত। এতে দেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাতেন, যা রপ্তানি খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতো। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যখন একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব সরকার দায়িত্ব নেবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে, তখন প্রয়োজনীয় ডলার কোথা থেকে আসবে- এ প্রশ্ন আরও বড় হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, এখন যদি সরকার ডলার সংরক্ষণ না করে, তাহলে ভবিষ্যতে ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যাওয়ার মতো বড় ফ্ল্যাকচুয়েশন দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের পক্ষে এ ধরনের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে একদিকে রপ্তানিকারক, অন্যদিকে আমদানিকারক— উভয় পক্ষই বড় চাপে পড়তে পারে।

ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।- চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি এবং এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগবান্ধব সরকার এলে ডলারের চাহিদা বাড়বে। এখন ডলার সংরক্ষণ না করলে তখন ডলারের দাম হঠাৎ ১১০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় উঠে যেতে পারে, যা আমদানিকারকদের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হবে। ফলে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক-উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

এ শিল্প উদ্যোক্তার মতে, ডলারের দামের চেয়ে স্থিতিশীলতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজার থেকে ডলার কেনার বিকল্প নেই। সরকার শতভাগ সঠিক কাজটাই করছে।’

তবে অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করে রিজার্ভ বাড়ানো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলেরই একটি অংশ। এতে স্বল্পমেয়াদে ডলার বাজারে অস্থিরতা কমবে এবং কিছুটা স্বস্তি আসবে। কিন্তু যদি এটি দীর্ঘমেয়াদি নীতি হিসেবে চলতে থাকে, তাহলে ডলার নীতির দ্বিমুখী প্রভাব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ জনি বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো তখনই সমস্যা হয় যদি সেটি অর্থনীতির বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়। সঠিক সময়ে এটি করা হলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে। আর ভুল সময়ে হলে মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।’

বর্তমানে বাজারে থাকা অতিরিক্ত ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক কিনে নিচ্ছে, যা সরাসরি যুক্ত হচ্ছে রিজার্ভে। ফলে রিজার্ভ বাড়লেও বেসরকারি খাতে ডলারের প্রাপ্যতা সংকুচিত হচ্ছে। এতে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা আরও কঠিন হতে পারে এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, টেকসই সমাধান তখনই আসবে, যখন দেশে বাস্তব অর্থে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) এবং অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুল বায়েস বার্তাবেলা  নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনছে মূলত রিজার্ভ বাড়ানোর জন্য নয়, বরং ডলারের দাম যেন অতিরিক্ত কমে বা বেড়ে না যায়—সে লক্ষ্যেই। বাজারে ডলারের সরবরাহ হঠাৎ বেড়ে গেলে দাম পড়ে যেতে পারে, যা রেমিট্যান্স ও রপ্তানি খাতের জন্য ক্ষতিকর। এই ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত ডলার কিনে নেয় এবং প্রয়োজন হলে ডলার ছেড়ে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করে। এটি মূলত ডলার বাজারে একটি দ্বিমুখী হস্তক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই রিজার্ভ কী কাজে লাগছে। যদি একই সঙ্গে আমদানি, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়তো, তাহলে রিজার্ভ বৃদ্ধির তাৎপর্য থাকতো। কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির। বলা যায়, চর্বি বাড়ছে, কিন্তু এক্সারসাইজ নেই।’

অধ্যাপক বায়েসের মতে, ‘স্বল্পমেয়াদে ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখা কার্যকর হলেও, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ও প্রকৃত ডলার চাহিদা তৈরি না হলে এই নীতির সুফল সীমিত থাকবে। ডলারের অস্থিতিশীলতাই রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও আমদানির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তাই আপাতত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ডলার বাজার একটি ‘স্ট্যাবল জোনে’ (স্থিতিশীল) রাখা।

৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

অর্থনীতি ডেস্ক: সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত চার বছরের ব্যবধানে দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছেন। করোনাকালীন ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঠিক কাছাকাছি অবস্থান করছেন, যার অর্থ হলো তাঁরা যে কোনো মুহূর্তে চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে পিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ কাজ করছে—দ্রব্যমূল্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতি এবং আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি। দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে, তার ফলে নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সঞ্চয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে সামান্য কোনো আর্থিক বিপর্যয় বা ধাক্কা এলেই তাঁরা সহজেই দরিদ্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ছেন।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানো না গেলে এই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা কঠিন হবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাতসকালে ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়লো সোনার দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।  

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  

আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। এই দাম কমানোর ২৪ ঘণ্টা পর একই পরিমাণ দাম বাড়ানো হলো।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এর আগে গতকাল সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ২৪১ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৯০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬

আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সব স্তরের মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর মাস থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির সরাসরি লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এই পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে রিকশাচালক ও মুচির মতো প্রান্তিক পেশাজীবীরাও খুব সহজেই নিজস্ব কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। সম্প্রতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এই তথ্য জানান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি এবং ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে গভর্নর জানান যে, বাংলা কিউআর কোড চালুর প্রক্রিয়াটি মোট চার ধাপে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক নির্দেশনাগুলো জারি করা হয় এবং গত ১ জুলাই থেকে তা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে এই প্রযুক্তির কার্যক্ষমতা ও সক্ষমতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হয়। আন্তঃসংযোগভিত্তিক এই লেনদেন ব্যবস্থায় একসঙ্গে অনেক বেশি লেনদেন সামাল দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের নিজস্ব ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ বা এনপিএসবি ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে তিনশ লেনদেন সম্পন্ন করার সক্ষমতা সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

গভর্নর আরও জানান যে, প্রায় একশটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এই আন্তঃসংযোগ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে হঠাৎ করে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হলে এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে কিছু উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে মাত্র দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে এই কার্যক্ষমতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সন্তোষজনক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া, গত ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সকল চার্জ সম্পূর্ণ অবৈতনিক বা শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

লেনদেন চার্জ প্রসঙ্গে গভর্নর স্পষ্ট করেন যে, দুই হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরে কোনো ধরনের চার্জ কাটা হবে না। এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এই ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেন ছিল মাত্র ৩৭ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই অর্জনকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে না দেখে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলা কিউআর ব্যবস্থার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। গভর্নর জানান যে, গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা কালেও এই সেবা সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে এই কার্যক্রমের চতুর্থ তথা চূড়ান্ত ধাপের সূচনা হবে। এই ধাপে একজন সাধারণ নাগরিক দেশের যেকোনো প্রান্তে অন্য আরেকটি নির্দিষ্ট কিউআর কোড স্ক্যান করে খুব সহজেই নগদ অর্থের ঝুট ঝামেলা ছাড়া টাকা পাঠাতে পারবেন।