?> বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা ছাড়ছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘ ১২০ বছরের কার্যক্রমের পর বাংলাদেশে নিজেদের ভোক্তা বা রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা হাতবদলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সম্প্রতি ব্যাংকটির পক্ষ থেকে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বা ডব্লিউআরবি ব্যবসা বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই খাতের পণ্যতালিকার মধ্যে রয়েছে সাধারণ আমানত, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিভিন্ন ঋণ, গাড়ি ও গৃহঋণের সুবিধা, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের সেবা, পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ও ইসলামি ব্যাংকিং কার্যক্রম। ব্যাংকটির বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে প্রধানত উচ্চ সক্ষমতা ও সুবিধা রয়েছে এমন খাতগুলোতে মূলধন ও মনোযোগ বাড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের এই ব্যবসার প্রতি ইতিমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এই ব্যবসা অর্জনের দৌড়ে রয়েছে। এই ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের রিটেইল ব্যবসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বিপুল পরিমাণ কম খরচের আমানত। ব্যাংকটির এই ব্যবসায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে, যার একটি বড় অংশের সুদহার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যেখানে প্রচলিত দেশীয় ব্যাংকগুলোকে অনেক বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হয়, সেখানে এই কম সুদের তহবিল এবং সমৃদ্ধ গ্রাহক ভিত্তি পাওয়ার সুযোগ স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করছে।

ব্যবসা হস্তান্তরের এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী এতে প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার সময় বাংলাদেশে তাদের সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক কিংবা কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সীমান্তপারের মূলধন প্রবাহ এবং অবকাঠামোগত অর্থায়নে ব্যাংকটির বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করা হবে।

এই বিশাল ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে প্রায় দেড় হাজার কর্মীকেও নতুন প্রতিষ্ঠানের অধীনে যুক্ত করার একটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যাংকটির মোট ১ হাজার ৯০০ কর্মীর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনই রিটেইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া এই ব্যবসার আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৮টি শাখা, বিভিন্ন ধরনের খুচরা ঋণ এবং কার্ড সেবা পরিচালিত হয়, যার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যবসা চূড়ান্তভাবে বিক্রি হলে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর জন্য একসঙ্গে বড় অঙ্কের আমানত, ঋণ পোর্টফোলিও এবং অভিজ্ঞ জনবল অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি হবে। তবে লেনদেনের মূল্যায়ন, কর্মীদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো নিখুঁতভাবে হিসাব করেই আগ্রহী ব্যাংকগুলো এগোচ্ছে।

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

দেশের আর্থিক খাতের চরম সংকটের চিত্র উঠে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে। বর্তমানে দেশের মোট ২২টি ব্যাংক মারাত্মক লোকসানের মুখে রয়েছে এবং এগুলোর পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বেশি। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাংক খাতের এই বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং একটি বিদেশি ব্যাংক। উচ্চ মাত্রার খেলাপি ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারা, তীব্র মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমানের কারণেই ব্যাংকগুলোর উপার্জনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যাংক পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত নিট ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তীব্র তারল্যসংকট সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে এসেছে এবং সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংকট উত্তরণে চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা বা ডিমান্ড লোন হিসেবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতের এই তরল সম্পদের বণ্টন সব জায়গায় সমান নয়, বরং অনেক ইসলামী ও প্রচলিত ধারায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের উচ্চহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এই উচ্চ হার কমাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকের সংখ্যা কমানো এবং উচ্চ আদালতে আটকে থাকা হাজার হাজার ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।


আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে গেছে। সংস্থাটির সঙ্গে সরকারের ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে চলতি বছরের মে মাস থেকেই আইএমএফের সঙ্গে এই নতুন ঋণ সহায়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ঋণের পরিমাণ এবং এর সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

নতুন এই ঋণ কর্মসূচি পেতে হলে আইএমএফের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মতো বিষয়গুলো প্রধানত রয়েছে। এসব শর্ত বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েই বর্তমানে দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ঋণ চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে।


১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

১০ ও ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ

দেশীয় স্পিনিং শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষা, রপ্তানি খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

পাশাপাশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিল অব এন্ট্রিতে কটন ইয়ার্নের কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ নিশ্চিত করতে এবং এইচএস কোডের অপব্যবহাররোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় মনে করে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প সুরক্ষিত হবে এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।

গত ১২ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিবউটিও সেল-২ থেকে এক চিঠিতে এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) আহ্বানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিল্পের সুরক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস ট্যারিফের এইচএস হেডিং ৫২.০৫, ৫২.০৬ ও ৫২.০৭-এর আওতায় ১০ ও ৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ড সুবিধা থাকায় গত কয়েক বছরে আমদানি অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এসব এইচএস হেডিংয়ের আওতায় সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টনে এবং মূল্য ছাড়িয়ে যায় প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিকের প্রবণতাও ঊর্ধ্বমুখী, যেখানে আমদানির পরিমাণ ও মূল্য দুটিই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্ড সুবিধা বন্ধের ব্যাখ্যায় চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত বা স্বল্প শুল্কে আমদানি করা নিম্ন কাউন্টের সুতা দেশীয় বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে, ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বর্তমানে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তারা মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে উৎপাদন চালাচ্ছে, যা শিল্পটির আর্থিক টেকসই অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, সুতা আমদানির এই প্রবণতার কারণে দেশীয় উৎপাদিত সুতার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এরই মধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও মিল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ উভয়ের জন্যই নেতিবাচক।

এছাড়া সুতা আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের গার্মেন্টস খাতকে ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর করে তুলছে। এতে দেশের টেক্সটাইল ভ্যালু চেইনের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দুর্বল হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্প কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার কথা তুলে বলেছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা অনেকাংশে হারাতে হবে। তখন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, সেপা ও জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে রপ্তানি পণ্যে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং ডাবল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হবে। আমদানি করা সুতার ওপর নির্ভরতা থাকলে এসব শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানানো হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, মনে করে বন্ড সুবিধা অব্যাহত থাকলে দেশীয় শিল্পে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও লিড টাইম বেড়ে যাওয়ার কারণে রপ্তানি খাতের সামগ্রিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাবে। বিপরীতে, নিম্ন কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্পে ভারসাম্য ফিরে আসবে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত হবে।