?> বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি শেখ সেলিমের

বার্তাবেলা ডেস্ক: বিএনপি-জামায়াতকে উগ্র সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন সরকারদলীয় সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এরা রাষ্ট্রের শত্রু, স্বাধীনতার শত্রু। সাম্প্রদায়িকতা গণতন্ত্রের শত্রু। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবি করছি। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে আপনিই এটা পারবেন। বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধীদের নিষিদ্ধ করলে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে।

এ সংসদ সদস্য বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের স্বাধীনতাকে বাঁচাতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে রাজনীতি করতে না পারে সেজন্য এ দাবি করছি। তাদের নিষিদ্ধ করতে হবে। এরা যেন রাজনীতির নামে বাংলাদেশে খুন, সন্ত্রাস ও অরাজকতা করতে না পারে। আর যাকেই ধরতে পারবেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনো দয়া-মায়া দেখানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এরা জঙ্গি, সন্ত্রাসী, স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী। তাদের এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তারা সংবিধানকে তোয়াক্কা করে না। যারা সংবিধান, নির্বাচন মানে না তারা আবার কী রাজনীতি করবে।

তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যকারীদের সন্ধানে কমিশন গঠনের প্রস্তাব করে বলেন, কারা এর পেছনে জড়িত ছিল তা বেরিয়ে আসবে। যারা বঙ্গবন্ধুকে মারতে মারে তারা যেকোনো ঘটনা ঘটাতে পারে।

দেশের বিরুদ্ধে এখনো ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত শক্তি আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান লন্ডনে বসে বিশ্বের বড় সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করে। কীভাবে বাংলাদেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি করা যায়, উন্নয়নের অব্যাহত ধারা বন্ধ করতে ষড়যন্ত্র করছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শেখ সেলিম বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে অগ্রসর হন তখন অতি বিপ্লবী, প্রতিবিপ্লবী... স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা জড়িত ছিল। উগ্রপন্থি সিরাজ সিকদার, সর্বহারা হকিত্বোহা, পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, লাল পতাকা বাহিনীর থানা লুট, ব্যাংক লুট, পাটের গুদামে আগুন, মানুষ হত্যা। ৭ জন সংসদ সদস্যকেও হত্যা করা হয়। কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে গণবাহিনী ও জাসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে সশস্ত্র আক্রমণ করে। কর্নেল ওসমানী গণতন্ত্র বলে বুক ফাটিয়ে ফেলতো, সে খুনি মোশতাকের সামরিক উপদেষ্টা হয়। গণবাহিনীর প্রধান কর্নেল তাহের বাহিনী রেডিও স্টেশনে গিয়ে খুনিদের সমর্থন জানায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার গণবাহিনী-জাসদ এরা বৈজ্ঞানিক সমাজন্ত্রের কথা বলে বঙ্গবন্ধুকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছিল। বঙ্গবন্ধুর চারপাশে যে শক্তিগুলো ছিল সেখান থেকে ষড়যন্ত্র না হলে বঙ্গবন্ধুর গায়ে কেউ হাত দিতে পারতো না। বড় একটা চক্র বঙ্গবন্ধুর আশপাশে ঘুরে তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

তিনি বলেন, কিছু কিছু বুদ্ধিজীবী এখনো আইনের শাসন ও মানবাধিকারের কথা বলে টেলিভিশনের পর্দা ফাটিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এসব বুদ্ধিজীবীরা সেদিন কোথায় ছিলেন?

আওয়ামী লীগের এই সিনিয়র এমপি বলেন, জিয়া ছিল আইএসআই-এর এজেন্ট। জিয়ার জন্ম পাকিস্তানে। তার পড়াশোনাও পাকিস্তানে। ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা চলাকালে আইএসআই-এর এজেন্ট হিসেবে জিয়াকে বাংলাদেশ পোস্টিং দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপি-জামায়াত একের পর এক নাশকতা শুরু করে। লন্ডনে বসে তারেক জিয়া অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণ তার জবাব দিয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে চায়।


নওগাঁর বদলগাছীতে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছীতে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে কৃষকেরা

আউশ ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে আমন ধান রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃষকেরা। কিন্তু এই প্রস্তুতিমূলক সময়েই চাহিদা অনুযায়ী সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ডিলারের দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা। একটি দোকানে ইউরিয়া সার পাওয়া গেলেও একই স্থানে ডিএপি কিংবা এমওপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করার জন্য কৃষকদের বাধ্য হয়ে একাধিক দোকানে ছোটাছুটি করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাওন ট্রেডার্স ও আলম ট্রেডার্স নামের দোকানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সার নেওয়ার জন্য কৃষকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তাঁদের চাহিদামতো সার হাতে পাচ্ছেন না। এতে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁদের অপূরণীয় সময় নষ্ট হচ্ছে। কৃষক দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল আলিম, শমসের আলী ও মোস্তফা জানান, একসঙ্গে সব সার না পাওয়ায় তাঁদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলায় মোট ১০টি বিসিআইসি ডিলার, ১৯টি বিএডিসি ডিলার এবং ৭২টি খুচরা সার বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। চলতি মাসে এই উপজেলায় ইউরিয়া ৩১২ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৮৮ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩৩৩ মেট্রিক টন এবং এমওপি ২৮০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে যে, কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। ডিলার শাওন ট্রেডার্সের মালিক মো. শামসুল হক ও আলম ট্রেডার্সের মালিক মাসুদ করিম জানিয়েছেন, একসঙ্গে সব ধরনের সার বরাদ্দ না পাওয়ায় এবং ইউরিয়ার চাহিদা বেশি থাকায় এই দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।

সার সংকটের কথা অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান জানান, এলাকায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং দীর্ঘ লাইনের বিষয়টি কৃষি বিভাগের নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে সাপাহার উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ৭০ মেট্রিক টন সার সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ডিলারের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষি বিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সার বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন।


১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের শরিক ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। সমঝোতা না হলে মোট আসনের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

১১ দলীয় জোটের একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক দল প্রার্থী দিতে আগ্রহী হওয়ায় সমঝোতার বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় যেসব আসনে সমাধান সম্ভব হবে না, সেগুলো উন্মুক্ত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘শুধু ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা আসবে।’

খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এমন অনেক আসন রয়েছে, যেখানে তিন-চারটি দলই প্রার্থী দিতে চায়। সোমবারও লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে। সামনে আরও বৈঠক হবে। আমরা চাই সব আসনে সমঝোতা হোক, তবে যেগুলো অমীমাংসিত থাকবে, সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘আমাদের বৈঠক এখনও বাকি রয়েছে। কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। যেসব আসনে সমঝোতা কঠিন হবে, সেখানে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কয়টি আসন উন্মুক্ত হবে, তা সমঝোতার পরই নির্ধারিত হবে।’

জামায়াত-চরমোনাই দ্বন্দ্ব কাটছে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে বারী মাসুদ বলেন, ‘জামায়াত কোন কোন আসনে প্রার্থী দিতে চায়, তা এখনও আমরা জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা মনোক্ষুণ্ন, কারণ একত্রে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। দুই দল আলাদা আলাদা বৈঠক করলেও সমাধান আসছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। কার কতটা সমর্থন আছে, সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে। আমরা তো ২৬৭ আসনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা

জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটে রয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি।

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯০ থেকে ১৯৫টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করলেও তাদের জন্য ৪০টির মতো আসন দেওয়ার আলোচনা চলছে। এছাড়া এনসিপি: ২৫-৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ১০টি,,খেলাফত মজলিশ: ৩টি, এবি পার্টি: ৩টি, এলডিপি: ২টি, বিডিপি: ২টি, জাগপা: ২টি, নেজামে ইসলাম পার্টি: ১টি আসন।

মনোনয়নপত্র জমা, অপেক্ষা ঘোষণার

সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকলেও জোটের প্রায় সব দলই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী,জামায়াত: ২৭৬ আসন, ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসন, এনসিপি: ৪৭, এবি পার্টি: ৫৩,,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ৯৪, খেলাফত মজলিশ: ৬৮, এলডিপি: ২৪, খেলাফত আন্দোলন: ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি: ৬, জাগপা: ৩, বিডিপি: ২টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

এদিকে, সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অথবা বুধবার ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।


শাহরাস্তিতে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে দ্রুত বিলীন হচ্ছে উর্বর আবাদি জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

শাহরাস্তিতে অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে দ্রুত বিলীন হচ্ছে উর্বর আবাদি জমি

কৃষি ডেস্ক: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ ও আইন সত্ত্বেও অসাধু চক্রের কারণে কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীত মৌসুমে ভেকু এবং বর্ষাকালে ড্রেজার ব্যবহার করে রাতের আঁধারে আবাদি জমির উর্বর ওপরের অংশ বা টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়সহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই এই অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে মাটি সরবরাহের পাশাপাশি পুকুর ভরাট ও বাসাবাড়ি নির্মাণের কাজেও এই কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিক মুনাফার লোভে অনেক জমির মালিক তাদের জমির ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরের উর্বর অংশ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

শাহরাস্তি অঞ্চলের কৃষকরা এই পরিস্থিতির কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাদের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষকদের মতে, জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমেও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। খিলা খাল ও রাগৈ বিল খাল সেচ প্রকল্পের পরিচালকদের আশঙ্কা, অবাধে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৮৫ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। তবে মাটি কাটার ফলে তিন ফসলি জমি ক্রমান্বয়ে দুই বা এক ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে এবং বহু জমি একেবারে অনাবাদি হয়ে পড়ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার জানান, জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ও ফসল উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। আরেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দাস উল্লেখ করেন যে, কোনো জমির টপসয়েল কাটা হলে তার পার্শ্ববর্তী জমির উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদুর রহমান জানান, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে কৃষিজমি সংরক্ষণের বিকল্প নেই এবং কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে।

অবৈধ মাটি কাটার এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং পাইপলাইন ধ্বংস করেছে। সহকারী কমিশনার ভূমি সামছুজ্জামান জানান, টপসয়েল রক্ষায় গত এক মাসে ১৫টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় ও ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে এবং এই অভিযান চলবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনগণকে মাটি কাটার কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।