?> উৎপাদন বাড়াতে মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

উৎপাদন বাড়াতে মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

উৎপাদন বাড়াতে মাঠে নামার অপেক্ষায় ৮ হাজার লবণচাষি

অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চল বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়ায় নতুন মৌসুমের লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মাঠে নামবেন প্রায় আট হাজার লবণচাষি। এই অঞ্চলের কৃষকরা শীতের শুরু থেকেই মাঠ প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। চলতি মৌসুমে এসব এলাকায় প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুঁইছড়ি, ছনুয়া, শেখেরখীল, গন্ডামারা, চাম্বলসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ঐতিহ্যগতভাবে লবণ উৎপাদিত হয়ে আসছে। সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক পলিথিন ব্যবহার করে লবণ চাষ করায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে চাষিদের আধুনিক এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়। কাকডাকা ভোর থেকেই মাঠ প্রস্তুতের কাজে নেমে পড়েন চাষিরা, যদিও মাঝে মধ্যে বৈরী আবহাওয়া তাদের এই পরিশ্রমে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে।

উৎপাদনের প্রস্তুতি চললেও স্থানীয় চাষিদের মধ্যে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আশঙ্কা কাজ করছে। গন্ডামারা এলাকার লবণচাষি ফজল আহমদ জানান, গত বছর বেশি জমিতে চাষ করা হলেও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিদেশি লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দেশীয় উৎপাদিত লবণের সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। লবণচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাহাব উদ্দীনও একই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ মজুত থাকার পরও আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অন্যদিকে, বিসিকের কক্সবাজার লবণশিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, সাধারণত বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদন কম হওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ লবণের দাম রয়েছে ৩৪০ টাকা এবং মাঠে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ মজুত রয়েছে। গত মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হলেও চলতি মৌসুমে চাষি ও জমির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের মাসিক চাহিদার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর সংশ্লিষ্ট সকলে গুরুত্বারোপ করেছেন।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে কে হতে পারেন জামায়াতের ‘চমক’

সংসদ নির্বাচন শেষে এখন আলোচনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নতুন সরকার আপাতত প্রশাসক বসালেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সব দল। শুরু হয়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো সিটি নির্বাচনেও স্পষ্ট হচ্ছে জোটগত সমীকরণ।

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট স্থানীয় নির্বাচনে শক্ত অবস্থান নিতে চায়। এরই মধ্যে দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কারা মেয়র পদে নির্বাচন করবেন তা নিয়ে দলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। নিজেরা ছাড় দিয়ে জোট থেকে প্রার্থী দিলে সেটা হবে জামায়াতের অন্যতম চমক। সেক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে এনসিপি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সদ্য প্রশাসক বসিয়েছে বিএনপি সরকার। ছয় মাসের মধ্যে সিটি নির্বাচন হবে বলেও একটি গুঞ্জন চলছিল। ছয় মাস বা একবছর- যখনই নির্বাচন হোক তার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতসহ জোটে থাকা দলগুলো।

জামায়াত থেকে বেশ কয়েকজন নেতা সিটি নির্বাচনে লড়তে চান। এর মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। মেয়র পদে আলোচনায় আছেন জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন। তিনি জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, যিনি ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থী ছিলেন।

দলের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘দুই সিটিতেই কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে এবং প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিশে শুরার এক সদস্য বলেন, ‘সেলিম উদ্দীন দীর্ঘদিন উত্তরের আমির হিসেবে কাজ করছেন এবং সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকায় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি এগিয়ে থাকতে পারেন।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম, ছাত্রশিবিরের সদ্য বিদায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা-৬ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল মান্নানের নাম রয়েছে আলোচনায়।

তবে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াত এনসিপিকে সমর্থন দিতে পারে। জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই সিটিতে এনসিপি থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা বেশি। সেক্ষেত্রে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হতে পারেন। আসিফ নিজেও জানিয়েছেন তিনি মেয়র পদে লড়বেন। এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে কমিটি গঠন করেছে এনসিপি।

এনসিপি সূত্রে আরও জানা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন। আর ঢাকা উত্তরে মনোনয়ন পেতে পারেন দলটির মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব।

কাউন্সিলর প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে কারা নির্বাচন করবেন সেটিও প্রায় চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের চকবাজার থানা পশ্চিমের আমির আবুল হোসাইন বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘গত এক বছর আগে থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ। যারা সম্ভাব্য প্রার্থী তারা জাতীয় নির্বাচনে ভালোভাবে কাজ করেছে, প্রচার-প্রচারণায় নিজেদের এগিয়ে রেখেছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় যারা দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর ধরে সংগঠন করছেন, এলাকায় পরিচিতি আছে তাদের প্রায়োরিটি দেওয়া হয়েছে।’


মজুরি নয় খড়ের বিনিময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে ধান কাটার উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

মজুরি নয় খড়ের বিনিময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে ধান কাটার উৎসব

কৃষি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটার মৌসুমে এক ব্যতিক্রমী বিনিময়প্রথা চালু হয়েছে। গবাদিপশুর খড়ের সংকট মেটাতে স্থানীয় অনেক কৃষক ও খামারি কোনো মজুরি ছাড়াই অন্যের জমির ধান কেটে দিচ্ছেন। এর বিনিময়ে তারা পারিশ্রমিক হিসেবে নগদ টাকার পরিবর্তে সম্পূর্ণ খড় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগটি খড় উৎসব হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার সময় হলেও এবার কিছু জমিতে আগাম জাতের ধান আগে পেকে গেছে। তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা বোরো মৌসুমের খড় ঠিকমতো শুকাতে পারেননি। অন্যদিকে বাজারে গোখাদ্যের দাম চড়া থাকায় গবাদিপশু পালনকারীরা চরম সংকটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির কারণে আগাম পেকে যাওয়া জমির মালিক এবং খড়প্রত্যাশী কৃষকদের মধ্যে এই অভিনব বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

ধান কাটতে আসা আইনুল হক ও কার্তিক বর্মণের মতো একাধিক গবাদিপশু মালিক জানান যে তাদের বাড়িতে গরু রয়েছে কিন্তু মজুত খড় ফুরিয়ে গেছে। বর্তমান বাজারে খড়ের দাম বেশি থাকায় বাড়তি খরচ এড়াতে তারা স্বেচ্ছায় অন্যের জমির ধান কেটে দিচ্ছেন। বিনিময়ে পাওয়া খড় দিয়ে তারা নিজেদের গবাদিপশুর খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত খড় বিক্রি করে সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন।

জমিওয়ালা কৃষকেরাও এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। কৃষক রেজাউল করিম ও তানজিনা বেগম জানান যে বিনা মজুরিতে শ্রমিকেরা ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে পৌঁছে দেওয়ায় তাদের হাজার হাজার টাকা শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ে দশ লাখের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে তেমনি অন্যদিকে গোখাদ্যের সংকটও দূর হচ্ছে।


বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬

বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা

অর্থনীতি ডেস্ক: একসময় দেশের সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটের সোনালী ঐতিহ্য নানা ভুল নীতি ও পরিকল্পনার অভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশের পাট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বীজের প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর, যার সিংহভাগ আসে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ পাট বীজ বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাজারে প্রায়ই অস্থিরতা এবং কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে এবং কৃষিকে স্বাবলম্বী করতে সরকার সম্প্রতি দেশীয় বীজ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক পাট বীজের চাহিদা প্রায় ছয় হাজার চারশ টন, যার বড় অংশই পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও স্থানীয় কৃষকদের অবদান মাত্র এক হাজার তিনশ টন। এই বিদেশনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে সার্কের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পারস্পরিকভাবে বিনিময় করা।

আমদানির ওপর থেকে এই চাপ কমাতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কর্মসূচির পাশাপাশি দেশেই পাট বীজ বাড়ানোর যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুর রহিম জানিয়েছেন, কৃষিকে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে এবং বিদেশের ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ চলছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে ভারতের চেয়েও ভালো মানের পাট ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের স্বস্তি দেবে।

ফসলের উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের যত্রতত্র ব্যবহার রোধেও কঠোর পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। মাটির প্রাকৃতিক গুণাগুণ ও উর্বরতা ফিরিয়ে আনতে ডলোচুন প্রয়োগ এবং ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে জৈব সার তৈরিতে ধঞ্চে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে ক্ষতিকর বিষাক্ত কীটনাশকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ফেরোমোন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো ও মিষ্টির বিকল্প হিসেবে স্টেভিয়া পাতার বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে এই কার্যক্রমে।

তবে এসব বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বীজ সরবরাহকারী ও বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য মোকাবিলা করতে পারলে তবেই এসব উদ্যোগ সফল হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, মাঠপর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো গেলে কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।