?> কৃষি খাতের তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

কৃষি খাতের তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি খাতের তিন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে নতুন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ

কৃষি ডেস্ক: কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পার্টনারসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বা পিডি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই পদায়ন ও দায়িত্ব পরিবর্তনের আদেশ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি বাড়ানো, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই রদবদল করা হয়েছে।

প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বা পার্টনার প্রকল্পে নতুন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. সাখাওয়াত হোসেন শরীফ। তিনি খামারবাড়ির পরিকল্পনা ও আইসিটি উইংয়ের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং আগের পিডি আবুল কালাম আজাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এছাড়া আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পেও নতুন পিডি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের নতুন প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আবুল বাসার মিয়া। তিনি গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং আগের পিডি তালহা জুবায়ের মাশরুরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত রূপের নতুন পিডি হয়েছেন মো. মাসুদুর রহমান। তিনি চর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পে সংযুক্ত অতিরিক্ত উপপরিচালক ছিলেন এবং আগের পিডি রাসেল আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি এবং ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ-সংশ্লিষ্ট এই অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে তালহা জুবাইরকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে টিস্যু কালচার প্রকল্পের নতুন পিডি মো. আবুল বাসার মিয়াকে এই প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই রদবদলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কৃষি ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিএডিসি ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের ও স্ত্রীর নামে দুটি ডিলারশিপ নিয়ে তিনি চালনা করছেন বলে জানা গেছে। চলতি ফসল চাষ মৌসুমে তাঁর দোকান থেকে ভুট্টার বীজ না কিনলে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না। এই শর্তের কারণে স্থানীয় শত শত কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ পেতে পারেন না এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন না। অথচ খায়রুল ইসলাম বেলকা ডিগ্রি কলেজে এবং তাঁর স্ত্রী বটতলা দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত থেকেও দুটি ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। মেসার্স খায়রুল ইসলাম ও মেসার্স রুফাইদা ট্রেডার্স নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সার নিতে গেলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ভুট্টার বীজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক বাবুল মণ্ডল ও শহিদুল ইসলাম জানান, তারা সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে ভুট্টার বীজ কেনার শর্ত দেওয়া হয় এবং বীজ না নেওয়ায় তাদের সার দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরেক কৃষক আবদুর রহিম মিয়া অভিযোগ করেন, ডিলার দম্পতি অনেক সময় সার আসার পরও না আসার ভান করেন এবং সারের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেন। এসব অনিয়ম রোধে কৃষকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিলার মো. খায়রুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কাছে কেউ সার নিতে আসেননি এবং তিনি নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই ডিলার কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ, আলোচনায় যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও এখনও রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ পদে কারা বসছেন তা নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে আলোচনা। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ১২ মার্চ বসছে সংসদ অধিবেশন। 

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সংসদীয় কাঠামো পুনর্বিন্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

রাষ্ট্রপতি পদে চার শীর্ষ নেতার কথা উঠছে

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে আরও চমক দেখাতে পারেন তারেক রহমান। সে ক্ষেত্রে দেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেলিমা রহমানের নাম সামনে আসতে পারে। নারী নেতৃত্বকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল থাকতে পারে দলীয় প্রধানের।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় রাজনীতির বাইরের কাউকে আনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে যাচ্ছে না। আলোচনায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর নামও। এছাড়া সাবেক সচিব বা অবসরপ্রাপ্ত কোনো সেনাপ্রধানের নামও আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বিএনপি জোট।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকারি ফলাফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গেলো রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনেই স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। ওই অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। বিগত সংসদদের স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে সংসদ অধিবেশন কিভাবে শুরু হবে বা প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাও সভাপতিত্ব করতে পারেন।

এদিকে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এম ওসমান ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আর ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। পাশাপাশি দুই কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় সরকারদলীয় সদস্য ব্যতীত অন্য দল থেকেও একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ ও হুইপ হতে পারেন কারা?

সংসদ উপনেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নাম। চিফ হুইপ পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবদীন ফারুক ও ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনির নাম।

হুইপ পদে আলোচনায় আছেন নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচিত এমরান আহমেদ চৌধুরী, সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়া, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

দলীয় একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে সংসদীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের স্থান দেওয়া হবে।

বিএনপির প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা বলেছেন, দল একেক করে সৎ, যোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মিছিলের শেষ মানুষটিও মূল্যায়িত হবে।

রাষ্ট্রপতি থেকে হুইপ পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে দলীয় আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের সর্বোচ্চ ফোরাম থেকেই নেওয়া হবে। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে আলোচনা বা নাম ভেসে বেড়াচ্ছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। তবে জনগণের প্রত্যাশা আছে—অতীত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার আলোকে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। আমরা চাই, সেই জনপ্রত্যাশা যেন পূরণ হয়।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘এই পদগুলো ঠিক করবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ নেতা। আর আমি বা আমরা জানতে পারলো আপনাদের জানাবো।’


কারাগারে থাকা জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের পরিবারের পাশে উপজেলা কৃষি অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

কারাগারে থাকা জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের পরিবারের পাশে উপজেলা কৃষি অফিস

কৃষি ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কারাগারে বন্দি থাকা জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিস। সম্প্রতি উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী এলাকায় আইয়ুব আলীর বাড়িতে যান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমানসহ দপ্তরের অন্য কর্মকর্তারা। সে সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। একই সঙ্গে আইয়ুব আলীর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারাগারে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও সংসার নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার পরিবার। আইয়ুব আলীর স্ত্রী ও ছোট দুটি সন্তান রয়েছে এবং পরিবারে তাদের দেখাশোনার আর কেউ নেই। তিনি প্রতিবছর কয়েক একর জমিতে আগাম সবজি চাষ করে থাকেন, যা তার অনুপস্থিতিতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর গুলিয়াখালী এলাকায় সারবোঝাই দুটি ট্রাক থামানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। স্থানীয় কিছু কৃষকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনিও ওই ট্রাক দুটি আটকে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, আদালতের নির্দেশনায় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে ওই সারগুলো বিক্রি করা হয়েছিল এবং মালিকের কাছে যথাযথ কাগজপত্র ছিল। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, ট্রাক আটকের সময় চালকদের কাছে সার পরিবহনের কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না এবং পরবর্তীতে পুলিশ নিলামের কাগজ প্রদর্শন করে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফরু মারমা জানান, গুলিয়াখালীর ওই সার নিলামের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কৃষি বিভাগকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এছাড়া সারগুলো সন্দ্বীপে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলোর সঠিক অবস্থান কোথায়, সে বিষয়েও কৃষি বিভাগের কাছে কোনো তথ্য নেই।

মানবিক কারণে এই কঠিন সময়ে কৃষকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় কৃষি প্রশাসন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান উল্লেখ করেন যে, ছোট দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাই আইনি সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনাটি কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।