?> দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

কৃষি ডেস্ক: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকার টিএসপি সার জব্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর গ্রামের একটি ধানের গুদামে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে ওই গুদাম থেকে মোট ১৯৮ বস্তা টিএসপি বা ট্রিপল সুপারফসফেট সার জব্দ করা হয়। স্থানীয় এক কৃষকের মালিকানাধীন ধানের গুদামটিতে এই সারগুলো অবৈধ উপায়ে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. আলমগীর হোসেন, যিনি স্থানীয় মৃত আবেদ আলীর ছেলে। মূলত সরকারি নিয়ম অমান্য করে অধিক মুনাফার আশায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সারগুলো সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জব্দ করা এই সারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ সাতষট্টি হাজার তিনশ টাকা। কৃষি খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই সারগুলো নিয়ে পরবর্তীতে কী করা হবে, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। জব্দ করা সমস্ত টিএসপি সার এখন সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলাকার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বিতরণ করা হবে। এই ধরনের আকস্মিক অভিযান অবৈধ ব্যবসায়ীদের মাঝে অসদুপায় অবলম্বনে বাধা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব বলেছেন- দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় সালন্দর ইউনিয়নে বরুনাগাঁও মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে স্থানীয় ভোটারদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন মির্জা ফখরুল। ভোটাররা বিগত আমলে জুলুম নিপিড়ন ও জমি দখলের কথা জানান।
এর প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের জন্য এর আগেও পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে কাজ করেছি। সংসদে গিয়েও কাজ করেছি। আমাকে আপনারা দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। আমার নতুন করে পরিচয় দেবার কিছু নেই। আমার গোটা পরিবারকে আপনারা চেনেন। বাবা-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি, আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না। আপনাদের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবো। আপনারা অভিযোগ করেছেন এখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্বৃত্তদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এগুলো আর থাকবে না। আমার দলের কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।
তিনি আরও বলেন, দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারে যেতে চাই। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন। তারেক রহমান সঠিকভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে পারবেন। যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য অতিতে আমরা কাজ করেছি, আগামিতেও করবো।।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকরা সহজেই সার পাবে, সার সংকট থাকবে না। পরিবারের মা বোনরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। সে কার্ড দিয়ে তারা ন্যায্য মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন এবং সে কার্ড দিয়ে চিকিৎসা সেবা পাবেন। এ কার্ড হবে মা বোনদের জন্য অস্ত্র।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা আমন খেতে ইঁদুরের উপদ্রব ও কৃষকের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা আমন খেতে ইঁদুরের উপদ্রব ও কৃষকের আশঙ্কা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সম্প্রতি রোপা আমন ধানখেতে ইঁদুরের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ইঁদুরগুলো ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলায় স্থানীয় কৃষকেরা দারুণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে খেতের অধিকাংশ ধানগাছ থোড় হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে এবং অল্পদিনের মধ্যে শিষ বের হওয়ার কথা। ঠিক এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই হানায় কৃষকদের বাম্পার ফলনের আশা হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। এখান থেকে ৩৩ হাজার থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ধান অন্যত্র বিক্রির সুযোগ থাকত। তবে ইঁদুরের আক্রমণে সেই সম্ভাবনা এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে তারা বাজার থেকে নিজ উদ্যোগে বিষটোপ ব্যবহার করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না। গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব উদ্দিন ও জিনারী ইউনিয়নের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন যে, তাঁদের জমির ধান ইঁদুর নষ্ট করে দিলেও কৃষি অফিস থেকে কোনো সহায়তা বা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে না।

কৃষকদের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, ধান রোপণের সময় কৃষকেরা সঠিক নিয়ম না মেনে খেত ঝোপঝাড়পূর্ণ রাখায় ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক দূরত্ব বজায় রেখে চারা লাগানো, জমি পরিষ্কার রাখা এবং পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি জানান।


দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দামে কৃষকের হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দামে কৃষকের হতাশা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সম্প্রতি আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠে মাঠে নতুন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও কৃষাণীরা। তবে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও ধানের বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই। প্রতি বিঘায় খরচ উঠিয়েও লোকসানের মুখে পড়ছেন তাঁরা।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব ধরনের উৎপাদন খরচ এবার বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বাজারে প্রতি মণ ধান ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হলেও ধান বিক্রি করে মিলছে মাত্র ১৫ থেকে ১৯ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে যার মধ্যে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আবাদ হয়েছে।

স্বল্প সময়ে ধান পাকার কারণে একই জমিতে আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজি চাষ করতে কৃষকেরা আগাম আমন চাষে আগ্রহী হন। তবে প্রথম ফসল হিসেবে ধানের দাম কম থাকায় পরবর্তী ফসলে বিনিয়োগ করতে গিয়ে তাঁরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। দাদপুর গ্রামের কৃষক বিদ্যুৎ রহমান জানান, বিঘাপ্রতি খরচ বেশি হলেও বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আলাদীপুর ইউনিয়নের কৃষক সেলিম হোসেন ও শিবনগর ইউনিয়নের কৃষক হাফিজুর রহমান।

ধান ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মতে, বাজারে আগাম জাতের হাইব্রিড ধান ওঠার পর থেকেই দাম নিম্নমুখী রয়েছে এবং গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণে দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। চাল কল মালিক সমিতির নেতা মঞ্জিল মোরশেদ জানান, আমদানির কারণে স্থানীয় চালের চাহিদা কমা এবং এর প্রভাব আমন মৌসুমে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান জানান, উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হলেও বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা কৃষি বিভাগের এখতিয়ারে নেই।