?> ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত রেখেই জামায়াতসহ ১১ দলের সমঝোতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের শরিক ১১ দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা চললেও এখনও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। সমঝোতা না হলে মোট আসনের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই আসতে পারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

১১ দলীয় জোটের একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কয়েকটি আসনে একাধিক দল প্রার্থী দিতে আগ্রহী হওয়ায় সমঝোতার বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ অবস্থায় যেসব আসনে সমাধান সম্ভব হবে না, সেগুলো উন্মুক্ত রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। ফলে ওই আসনগুলোতে জোটভুক্ত দলগুলো আলাদাভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের বার্তাবেলা নিউজকে বলেন, ‘শুধু ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেই নয়, আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ আসন উন্মুক্ত থাকতে পারে। বাকি আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত হলে চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা আসবে।’

খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এমন অনেক আসন রয়েছে, যেখানে তিন-চারটি দলই প্রার্থী দিতে চায়। সোমবারও লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়েছে। সামনে আরও বৈঠক হবে। আমরা চাই সব আসনে সমঝোতা হোক, তবে যেগুলো অমীমাংসিত থাকবে, সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ‘আমাদের বৈঠক এখনও বাকি রয়েছে। কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। যেসব আসনে সমঝোতা কঠিন হবে, সেখানে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। কয়টি আসন উন্মুক্ত হবে, তা সমঝোতার পরই নির্ধারিত হবে।’

জামায়াত-চরমোনাই দ্বন্দ্ব কাটছে না

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে বারী মাসুদ বলেন, ‘জামায়াত কোন কোন আসনে প্রার্থী দিতে চায়, তা এখনও আমরা জানি না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত হয়নি। আমরা মনোক্ষুণ্ন, কারণ একত্রে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। দুই দল আলাদা আলাদা বৈঠক করলেও সমাধান আসছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। কার কতটা সমর্থন আছে, সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে। আমরা তো ২৬৭ আসনেই মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’

আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা

জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটে রয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, খেলাফত মজলিশ, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), এবি পার্টি ও এলডিপি।

জোট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে ১৯০ থেকে ১৯৫টি আসনে প্রার্থী দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসন দাবি করলেও তাদের জন্য ৪০টির মতো আসন দেওয়ার আলোচনা চলছে। এছাড়া এনসিপি: ২৫-৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ১০টি,,খেলাফত মজলিশ: ৩টি, এবি পার্টি: ৩টি, এলডিপি: ২টি, বিডিপি: ২টি, জাগপা: ২টি, নেজামে ইসলাম পার্টি: ১টি আসন।

মনোনয়নপত্র জমা, অপেক্ষা ঘোষণার

সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকলেও জোটের প্রায় সব দলই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী,জামায়াত: ২৭৬ আসন, ইসলামী আন্দোলন: ২৬৮ আসন, এনসিপি: ৪৭, এবি পার্টি: ৫৩,,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: ৯৪, খেলাফত মজলিশ: ৬৮, এলডিপি: ২৪, খেলাফত আন্দোলন: ১১, নেজামে ইসলাম পার্টি: ৬, জাগপা: ৩, বিডিপি: ২টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

এদিকে, সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অথবা বুধবার ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে।

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন- দুই সময়ের শহীদদের রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতাকে এক সুতোয় গেঁথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

নিরাপদ দেশ গড়া

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চায়। কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।’

‘আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতল মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রত্যাশা পূরণ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। আকাঙ্ক্ষা আছে দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই লাখ-কোটি মানুষের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’

রক্তের ঋণ শোধ

মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’

তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের স্বৈরাচারের আমলে হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।’

সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।’

সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে আসুন আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

ধৈর্য ধারণের আহ্বান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির ভক্ত-চরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে পারি।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আল্লাহর রহমত চাই। যে জাতীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে আছেন, বাইরে আছেন, আমরা সকলে মিলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

দেশের শান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোন উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই।’

আই হ্যাভ এ প্ল্যান

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন জন্য বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’


ন্যায়ের আলোকে দেশ পরিচালনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি- হে রাব্বুল আলামিন, একমাত্র মালিক, একমাত্র পরওয়ারদিগার, একমাত্র রহমতদানকারী, একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দয়া এই দেশ ও দেশের মানুষের ওপর থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

‘আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা
নিজের মা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকে সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে চাইবো, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ ওনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারিনি। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদেরসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।’

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই- আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।’

তিনি সবাইকে মিলে কাজ করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে এভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দিনাজপুরের খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে বাম্পার ফলন ও লাভের মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

দিনাজপুরের খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে বাম্পার ফলন ও লাভের মুখ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক ময়েজ উদ্দিন সম্প্রতি গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে দারুণ সফলতা পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এবং দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনি চলতি মৌসুমে এই চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁর ২০ শতক জমির শিমখেত বর্তমানে ফুল ও ফলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং মাচাজুড়ে কচি শিম ঝুলছে। এই চমৎকার ফলন দেখে তিনি বেশ ভালো লাভের জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন।

ময়েজ উদ্দিনের এই অভাবনীয় সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তাঁর দেখাদেখি কায়েসসহ স্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন চাষি চলতি মৌসুমে শিম চাষে যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে ওই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি যেমন ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হচ্ছে, তেমনি কৃষকদের মাঝে বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, প্রচলিত ধারার ফসলের বাইরে গিয়ে বিকল্প ও লাভজনক কিছু চাষ করার ভাবনা থেকেই তিনি মূলত এই উদ্যোগ নেন। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও প্রকল্পের সার্বিক সহায়তায় তিনি হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষাবাদ শুরু করেন। গ্রীষ্ম মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি শিমের কাঙ্ক্ষিত বাজারদর পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং আগামী দিনে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

অর্থনৈতিক হিসাবের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর ২০ শতক জমিতে শিম চাষ করতে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী তিনি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার ফলে তাঁর প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট লাভ হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, মৌসুম ও জলবায়ু অনুযায়ী ফসলে বৈচিত্র্য এনে কৃষকের আয় বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও রোগবালাই দমনের কৌশল বাতলে দেওয়ার কারণেই কৃষক ময়েজ উদ্দিন সফল হতে পেরেছেন। কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগ স্থানীয় বাজারে সবজির জোগান বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলছে।


দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবৈধভাবে মজুত করা ১৯৮ বস্তা টিএসপি সার জব্দ

কৃষি ডেস্ক: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার টাকার টিএসপি সার জব্দ করা হয়েছে। সম্প্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মাহানপুর গ্রামের একটি ধানের গুদামে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো উদ্ধার করেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সার জব্দের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে ওই গুদাম থেকে মোট ১৯৮ বস্তা টিএসপি বা ট্রিপল সুপারফসফেট সার জব্দ করা হয়। স্থানীয় এক কৃষকের মালিকানাধীন ধানের গুদামটিতে এই সারগুলো অবৈধ উপায়ে জমিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মো. আলমগীর হোসেন, যিনি স্থানীয় মৃত আবেদ আলীর ছেলে। মূলত সরকারি নিয়ম অমান্য করে অধিক মুনাফার আশায় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সারগুলো সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জব্দ করা এই সারগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ সাতষট্টি হাজার তিনশ টাকা। কৃষি খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

উদ্ধারকৃত এই সারগুলো নিয়ে পরবর্তীতে কী করা হবে, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। জব্দ করা সমস্ত টিএসপি সার এখন সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলাকার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বিতরণ করা হবে। এই ধরনের আকস্মিক অভিযান অবৈধ ব্যবসায়ীদের মাঝে অসদুপায় অবলম্বনে বাধা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।