?> বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বান্দরবানের পাহাড়ে জুমের ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন জুমিয়ারা

বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে এখন পেকে উঠেছে জুমের ধান। পাহাড়ের ঢালু জমিতে দলবদ্ধভাবে এই ফসল কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় জুমিয়ারা। ঐতিহ্যবাহী এই চাষাবাদ ও ফসল তোলার উৎসবে তাঁদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরাও।

পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির আওতায় কেবল ধানই ফলানো হয়নি, বরং একই জমিতে উৎপাদিত হয়েছে কলা, ভুট্টা, মারফা, চিনার ও তিলের মতো হরেক রকমের ফসল। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত জুমের ধান কাটা, মাড়াই এবং তা রোদে শুকানোর কাজ চলে।

কৃষকরা পাহাড়ের অস্থায়ী জুমঘর থেকে ধান ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পর তা নিজেদের মূল বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বছরের শেষ দিক থেকে শুরু করে শীতকাল পর্যন্ত পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে ঘরে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী জুম ধানের নবান্ন উৎসব।

সম্প্রতি বান্দরবান-থানচি সড়কের টংকাবতী ইউনিয়নের নতুন রমজুপাড়া এলাকায় এমন চিত্র ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে। পাহাড়ি জনপদের এই কৃষিকাজ ও উৎসব স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

সীতাকুণ্ডে সোনালি আখে লাভের আশা, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি সেবায় অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সীতাকুণ্ডে সোনালি আখে লাভের আশা, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষি সেবায় অসন্তোষ

কৃষি ডেস্ক: সবজি চাষের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে 'রং বিলাস' জাতের সোনালি আখে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত এই আখ চাষ কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সীতাকুণ্ডে মোট ৯ হেক্টর জমিতে ৮১ জন কৃষক আখের সফল আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৫ হেক্টরে রং বিলাস, ৩ হেক্টরে স্থানীয় অন্যান্য জাত এবং ১ হেক্টরে ২০৮ জাতের আখের চাষ সম্পন্ন হয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে ৪৮ মেট্রিক টন ধরে মোট ৪৩২ মেট্রিক টন আখ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মুরাদপুর ইউনিয়নের ঢালিপাড়া, ফকিরহাট, ইকোপার্ক এলাকা ছাড়াও বাঁশবাড়িয়া ও পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে এবার আখের ব্যাপক ফলন দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় এই আখের চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় তারা এটিকে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পূর্বে সবজি চাষে বড় ধরনের লোকসান গোনা কৃষক শাহজাহান ২৪ শতক জমিতে প্রায় ২ লাখ টাকা খরচ করে আখ চাষ করেছেন। তার ক্ষেতের ফসল ভালো থাকায় তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকার আখ বিক্রির এবং সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। এছাড়া আবদুল্লাহ নামের আরেক কৃষক ২২ শতক জমিতে আখের চাষের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকদের আরও জমি কিনে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ লাখ টাকার আখ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন।

তবে ফলন ভালো হলেও আখের খেতের রোগবালাই নিয়ে কৃষকদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। চাষিদের অভিযোগ, আখে লাল পাতা ও গোড়া পচা রোগ দেখা দিলেও প্রতিকার বা সঠিক সার ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ইকোপার্কসংলগ্ন এলাকার খেতগুলো পরিদর্শন করে জরুরি পরামর্শ দেওয়ার জন্য কৃষকরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছেন। মাঠপর্যায়ে সেবার এই ঘাটতির বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কল্পনা রহমান জানান, তাদের অফিসে ২৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ১৯ জন কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। এই ১৯ জনের মধ্যে আবার ৪ জন গুরুতর অসুস্থ থাকায় মাত্র ১৫ জন কর্মী নিয়ে বিশাল এলাকায় সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, তিনি নিজে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলেছেন এবং কারিগরি পরামর্শ দিয়েছেন। তবে জনবল সংকটের কারণে ইকোপার্ক এলাকার খেতগুলোতে এখনো পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি এবং খুব শীঘ্রই সেখানে কর্মকর্তা পাঠানো হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, আখ চাষের জন্য সরাসরি কোনো সরকারি সার বা কীটনাশক বিনামূল্যে বিতরণের বরাদ্দ নেই। তবে কৃষকদের আয় আরও বাড়াতে আখের ফাঁকা জায়গায় সাথি ফসল হিসেবে ডালজাতীয় ফসল ও বিলাতি ধনেপাতা চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


পলিনেট ও মালচিং কৌশলে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

পলিনেট ও মালচিং কৌশলে বদলে যাচ্ছে দেশের কৃষি খাত

রাজশাহীর দুর্গাপুরে আধুনিক পলিনেট পদ্ধতি ব্যবহার করে আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষক মোখলেছুর রহমান। প্রথাগতভাবে দেশের আবহাওয়া আঙুর চাষের উপযোগী না হলেও, এই প্রযুক্তির কল্যাণে তার বাগানে এখন রসাল আঙুর ঝুলছে। শুধু আঙুর নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পলিনেট ও মালচিং কৌশল কাজে লাগিয়ে নানা ধরনের ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটছে। এ ধরনের উদ্ভাবনী চাষপদ্ধতি গ্রিনহাউসের মতো কাজ করায় কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে।

পলিনেট পদ্ধতিতে নেট, পলিথিন ও স্টিলের কাঠামো তৈরি করে কৃত্রিমভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এই ছাউনির ভেতরে সূর্যের আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে আঙুরের পাশাপাশি ক্যাপসিকাম, টমেটো, স্ট্রবেরি, ফুলকপি ও লেটুসের মতো দেশি-বিদেশি ফসল ও ফুলের চাষ সহজ হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে আধুনিক সেচ সুবিধাসম্পন্ন পলিনেট হাউস সরবরাহ করা হয়েছে।

কৃষক মোখলেছুর রহমান পলিনেটে চাষ করে বছরে দুবার আঙুর ফলিয়ে প্রতিবার প্রায় চার লাখ টাকায় বিক্রি করছেন। এছাড়া চারঘাটের কৃষক মনিরুল ইসলাম পলিনেটে চারা উৎপাদন করে গত তিন বছরে ২৭ লাখ টাকা আয় করেছেন। এই প্রযুক্তি ৬০ শতাংশ রোদ আটকানোর পাশাপাশি পোকামাকড় প্রতিরোধ করে। ফলে বালাইনাশকের ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।

পলিনেটের পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিও কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে চারার গোড়ার মাটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, যা মাটির আর্দ্রতা রক্ষা ও আগাছা দমনে কাজ করে। পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন শিক্ষার্থী মজিবুল হাসান রকি। তিনি কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে চমৎকার ফলন পেয়েছেন।

প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষকেরা এখন স্বউদ্যোগেও এই আধুনিক পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে এক নতুন রূপান্তর ঘটছে। তবে পলিনেট হাউস বিতরণে সঠিক কৃষক নির্বাচন করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন তারা।


কৃষক কার্ড: প্রণোদনার অর্থে শুধু সার, বীজ কৃষি উপকরণই কেনা যাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কৃষক কার্ড: প্রণোদনার অর্থে শুধু সার, বীজ কৃষি উপকরণই কেনা যাবে

কৃষক কার্ডধারীদের জন্য সরকারি প্রণোদনার অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ কার্ডের বিপরীতে পাওয়া আর্থিক সহায়তা দিয়ে অনুমোদিত ডিলার পয়েন্ট থেকে কেবল সার, উন্নত বীজ এবং অন্যান্য জরুরি কৃষি উপকরণই সংগ্রহ করা যাবে। কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং কৃষকদের সরাসরি সহায়তার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত কৃষক আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি প্রণোদনা পেয়েছেন। এর আগে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলে কার্ড বিতরণের সফল সমাপ্তি ঘটেছিল, যেখানে প্রায় একুশ হাজার কৃষককে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে সারা দেশে বর্তমানে কৃষকদের নিবন্ধনের কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১৮ লাখের বেশি কৃষক নিজেদের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তবে উদ্বোধনী দিনে আংশিক কৃষকদের হাতে কার্ডের হার্ড কপি পৌঁছালেও বাকিদের ক্ষেত্রে বিকল্প উপায়ে প্রণোদনা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সোনালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ব্লকের কৃষকদের এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাদের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড পৌঁছাবে না, তাদের জন্য কিউআর কোড ব্যবহারের মাধ্যমে ডিলার পয়েন্ট থেকে উপকরণ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

কৃষক কার্ড জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কার্ডের অনুপস্থিতিতেও কিউআর কোড ব্যবহার করে কৃষকেরা সহজে তাদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে যেসব এলাকায় পিওএস বা পয়েন্ট অব সেল মেশিন পৌঁছায়নি, সেখানে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে এই ডিজিটাল কার্ড যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।