দেশে উদারপন্থী গণতন্ত্র চাই: মির্জা ফখরুল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
?>
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে বাধার মুখে পড়েন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি রাতে কামারজানি ইউনিয়নের এই বন্দরে কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে অভিযানটি চালানো হয়। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ওই গুদাম থেকে ১৫০ বস্তা অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে গুদামে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সার মজুতের বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুদাম মালিকের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা অভিযان দলের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া পাঁচজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হন এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সাংবাদিক ও কৃষি কর্মকর্তারা মুক্ত হন। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং আইনভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুস শাহাদত ফাইন জানান, সাময়িক এই গোলযোগের পর বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর জব্দকৃত ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার বাজোপ্ত করা হয় এবং অবৈধ মজুতদারের গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কৃষি ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে রঙিন সাগর ও চাপা-সবরি জাতের কলার চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক হাফিজুর রহমান সরদার। প্রায় চার একর জমিতে গড়ে ওঠা তার এই বাগানে ছোট আকৃতির গাছে ঝুলছে বড় বড় কলার কাঁদি। মাছচাষ এবং ফিলিপাইন জাতের আখের পর এবার নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন তিনি।
স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে পরিত্যক্ত অংশ পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করেন এই কৃষক। গত বছরের আশ্বিন মাসে রোপণ করা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলাগাছের অধিকাংশে এখন পরিপক্ব ফল এসেছে। বাগান তৈরিতে আড়াই লাখ টাকা খরচ হলেও তিনি প্রায় আট থেকে নয় লাখ টাকার কলা বিক্রির আশা করছেন।
বর্তমানে তার বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কাঁদি রঙিন সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে, যার পাইকারি দর ছয়শ থেকে আটশ টাকা। এছাড়া কলার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় জন্ম নেওয়া চারা প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন তিনি। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ১০ মাস পর গাছে ফল ধরায় তার বিনিয়োগের টাকা দ্রুত উঠে আসছে।
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান জানিয়েছেন, এই বাগানের বিষয়ে তারা আগে অবগত না থাকলেও প্রয়োজনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান উল্লেখ করেছেন, স্থানীয়ভাবে পুষ্টিসমৃদ্ধ এমন ফলের উৎপাদন বাড়লে মানুষের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে এবং প্রশাসন থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।
শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশ এখন আমন ধানের সবুজে সেজে উঠেছে। পড়ন্ত বিকেলে কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ের অদূরে সমতল ভূমি ও টিলাজুড়ে শুধু সবুজ ধানখেত দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক দিনে এই এলাকার কর্ণঝোড়া, হালচাটি, ঝুলগাঁও, বালিজুড়ী ও রাংটিয়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে প্রকৃতির এমন নান্দনিক দৃশ্য চোখে পড়েছে।
চলতি মৌসুমে এই তিন উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীবরদীতে ৩ হাজার ৫০১ হেক্টর, ঝিনাইগাতীতে ২ হাজার১৪০ হেক্টর এবং নালিতাবাড়ীতে ২ হাজার ১১৬ হেক্টর জমি চাষের আওতায় এসেছে। ৩০ থেকে ৩৫ দিন আগে রোপণ করা গাছগুলোতে এখনো শিষ না আসলেও নিয়মিত বৃষ্টি ও পরিচর্যার কারণে ধানগাছগুলো বেশ শক্ত হয়ে উঠছে।
হালচাটি গ্রামের কিষানি শেফালি মাংমা জানান যে মাসখানেক আগে চারা রোপণের পর সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় গাছগুলো ভালো হয়েছে। বড় গজনী এলাকার কিষানি শান্তা চিচাম ধারদেনা করে ৬০ শতাংশ জমিতে ধান লাগিয়েছেন এবং গাছের বাড়ন্ত অবস্থা দেখে ভালো ফলনের আশা করছেন। শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা একটু দেরিতে চারা রোপণ করায় ধানও পরে কাটতে হয় এবং নিয়মিত সার ও সেচ দেওয়ায় ফসল ভালো হয়েছে।
পাহাড়ের ঢাল ও মেঠো পথের পাশের এই সবুজ ধানখেত ঘিরে কৃষকদের মনে একধরনের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ধান পাকার সময় পাহাড় থেকে বন্য হাতির পাল নেমে আসার পুরোনো দুশ্চিন্তাও রয়েছে কৃষকদের মনে। সমস্ত শঙ্কা মাথায় রেখেই তাই তাঁরা পরম যত্নে জমির আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন।
