সম্প্রতি উৎপাদিত ধানের কাঙ্ক্ষিত বাজারদর না পাওয়ায় চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী ও নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না চাষিদের। এর ফলে ভবিষ্যতে ধান চাষের প্রতি কৃষকদের অনীহা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী অঞ্চলে সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে এক হাজার টাকার বেশি। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান মাত্র নয়শ টাকা বা তার চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। এই লোকসানের প্রভাব পড়েছে জমির পত্তন বাজারেও, যেখানে গত বছরের তুলনায় পত্তনমূল্য প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
নওগাঁর পত্নীতলায় আউশ ধানের ফলন ভালো হলেও খরার কারণে সেচ ও অন্যান্য উপকরণের পেছনে বাড়তি খরচ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাতশ ষাট থেকে আটশ পঞ্চাশ টাকায়। অথচ গত বছর একই ধান বারোশ থেকে চৌদ্দশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।
খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের মান ঠিক না থাকায় দামে এর প্রভাব পড়তে পারে এবং সিন্ডিকেটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার সোহরাব হোসেন কৃষকদের ধান তাৎক্ষণিকভাবে না বিক্রি করে শুকিয়ে কিছুদিন পর সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের এই বিশাল পার্থক্যের কারণে বিশেষ করে বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই খাদ্যশস্যটির আবাদ ও উৎপাদন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।








