?> দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দামে কৃষকের হতাশা | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দামে কৃষকের হতাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাম্পার ফলন হলেও ধানের দামে কৃষকের হতাশা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সম্প্রতি আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠে মাঠে নতুন ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও কৃষাণীরা। তবে বাম্পার ফলন সত্ত্বেও ধানের বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি নেই। প্রতি বিঘায় খরচ উঠিয়েও লোকসানের মুখে পড়ছেন তাঁরা।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ সব ধরনের উৎপাদন খরচ এবার বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বাজারে প্রতি মণ ধান ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হলেও ধান বিক্রি করে মিলছে মাত্র ১৫ থেকে ১৯ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে যার মধ্যে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আবাদ হয়েছে।

স্বল্প সময়ে ধান পাকার কারণে একই জমিতে আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজি চাষ করতে কৃষকেরা আগাম আমন চাষে আগ্রহী হন। তবে প্রথম ফসল হিসেবে ধানের দাম কম থাকায় পরবর্তী ফসলে বিনিয়োগ করতে গিয়ে তাঁরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। দাদপুর গ্রামের কৃষক বিদ্যুৎ রহমান জানান, বিঘাপ্রতি খরচ বেশি হলেও বর্তমান বাজারদরে ধান বিক্রি করে তাঁকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আলাদীপুর ইউনিয়নের কৃষক সেলিম হোসেন ও শিবনগর ইউনিয়নের কৃষক হাফিজুর রহমান।

ধান ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের মতে, বাজারে আগাম জাতের হাইব্রিড ধান ওঠার পর থেকেই দাম নিম্নমুখী রয়েছে এবং গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণে দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। চাল কল মালিক সমিতির নেতা মঞ্জিল মোরশেদ জানান, আমদানির কারণে স্থানীয় চালের চাহিদা কমা এবং এর প্রভাব আমন মৌসুমে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান জানান, উৎপাদন ব্যয় কমাতে কৃষকদের মাঝে সার ও বীজ বিতরণ করা হলেও বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা কৃষি বিভাগের এখতিয়ারে নেই।

ফেনীতে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেচ প্রকল্প উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর, ২০২৬

ফেনীতে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে সেচ প্রকল্প উদ্বোধন

ফেনী জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে একটি বড় প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন।

পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফলক উন্মোচন করে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরিবেশ রক্ষায় একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন।

ঢাকা থেকে সড়কপথে নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু। ওই সময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন ও মহিলা সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং কৃষিকাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কৃষি ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিএডিসি ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের ও স্ত্রীর নামে দুটি ডিলারশিপ নিয়ে তিনি চালনা করছেন বলে জানা গেছে। চলতি ফসল চাষ মৌসুমে তাঁর দোকান থেকে ভুট্টার বীজ না কিনলে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না। এই শর্তের কারণে স্থানীয় শত শত কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ পেতে পারেন না এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন না। অথচ খায়রুল ইসলাম বেলকা ডিগ্রি কলেজে এবং তাঁর স্ত্রী বটতলা দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত থেকেও দুটি ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। মেসার্স খায়রুল ইসলাম ও মেসার্স রুফাইদা ট্রেডার্স নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সার নিতে গেলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ভুট্টার বীজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক বাবুল মণ্ডল ও শহিদুল ইসলাম জানান, তারা সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে ভুট্টার বীজ কেনার শর্ত দেওয়া হয় এবং বীজ না নেওয়ায় তাদের সার দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরেক কৃষক আবদুর রহিম মিয়া অভিযোগ করেন, ডিলার দম্পতি অনেক সময় সার আসার পরও না আসার ভান করেন এবং সারের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেন। এসব অনিয়ম রোধে কৃষকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিলার মো. খায়রুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কাছে কেউ সার নিতে আসেননি এবং তিনি নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই ডিলার কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।


ভালো দামের আশায় নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভালো দামের আশায় নীলফামারীতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

শীত নামার আগেই বাজারে নতুন আলু বিক্রি করে বাড়তি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাষিরা। আমন ধান কাটার পরপরই স্থানীয় কৃষকেরা উঁচু জমি প্রস্তুত করে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলু রোপণে। উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডী ইউনিয়নের মাঠে এখন চলছে এই আগাম সবজি চাষের মহাযজ্ঞ। কৃষকদের এই বাড়তি কর্মতৎপরতায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি তাদের মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মৌসুমে বাজারে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত সার সরবরাহের স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকায় তাঁরা নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। গত বছরের সেই ক্ষতি এবার পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন মাঠের সাধারণ চাষিরা। বাহাগিলীর কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করছেন এবং জমি ইজারা ও পরিচর্যা বাবদ তাঁর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

স্থানীয় কৃষক আবুল হোসেন জানান, আগাম জাতের 'সেভেন' আলু রোপণের মাত্র ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই জমি থেকে উত্তোলন করা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার এই আগাম আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া রণচণ্ডীর কৃষক মনছুর আলীও দুই বিঘা জমিতে একই উদ্দেশ্যে আগাম আলু চাষ করেছেন এবং আগেভাগে ফসল তুলে ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, চলতি কৃষি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ এলাকায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই এলাকার আলু বাজারে সবার আগে আসায় চাষিরা তুলনামূলকভাবে ভালো দাম পেয়ে থাকেন। কৃষকেরা এই মৌসুমে 'সেভেন' জাতের পাশাপাশি 'কারেজ লাল' জাতের আলুর চাষও করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।