রংপুরের পীরগাছায় নতুন সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের কাজ শেষ হওয়ার আগেই নয়জনের একটি তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না করা হলেও এই তালিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের গত ৩১ আগস্টের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে পীরগাছার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে মোট নয়জন সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের আগেই সাতটি ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ১৫ লাখ থেকে ২৭ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই সাত ইউনিয়নে মোট ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা উৎকোচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। ছড়িয়ে পড়া তালিকায় দেখা যায়, সদর ইউনিয়নে সুলতানা ফেরদৌসী এবং তাম্বুলপুর ইউনিয়নে সুইটির নাম রয়েছে, যারা যথাক্রমে উপজেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী। এছাড়া ডিলার নিয়োগের বিষয়ে একটি অডিও ক্লিপ এবং বিভিন্ন প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে অনিয়মের প্রতিবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় কান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ তার স্ত্রীর ডিলার হওয়ার কথা স্বীকার করলেও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ সরবরাহের ডিলার নিয়োগে এমন অনিয়মের অভিযোগ আসায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।