কৃষি ডেস্ক: চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ ও আইন সত্ত্বেও অসাধু চক্রের কারণে কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শীত মৌসুমে ভেকু এবং বর্ষাকালে ড্রেজার ব্যবহার করে রাতের আঁধারে আবাদি জমির উর্বর ওপরের অংশ বা টপসয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড়সহ উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই এই অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় ইটভাটাগুলোতে মাটি সরবরাহের পাশাপাশি পুকুর ভরাট ও বাসাবাড়ি নির্মাণের কাজেও এই কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অধিক মুনাফার লোভে অনেক জমির মালিক তাদের জমির ৩ থেকে ৪ ফুট গভীরের উর্বর অংশ বিক্রি করে দিচ্ছেন।
শাহরাস্তি অঞ্চলের কৃষকরা এই পরিস্থিতির কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তাদের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৃষকদের মতে, জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের সেচ কার্যক্রমেও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। খিলা খাল ও রাগৈ বিল খাল সেচ প্রকল্পের পরিচালকদের আশঙ্কা, অবাধে মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই উপজেলায় মোট ১১ হাজার ৮৫ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। তবে মাটি কাটার ফলে তিন ফসলি জমি ক্রমান্বয়ে দুই বা এক ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে এবং বহু জমি একেবারে অনাবাদি হয়ে পড়ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার জানান, জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ও ফসল উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। আরেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার দাস উল্লেখ করেন যে, কোনো জমির টপসয়েল কাটা হলে তার পার্শ্ববর্তী জমির উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদুর রহমান জানান, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে কৃষিজমি সংরক্ষণের বিকল্প নেই এবং কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে।
অবৈধ মাটি কাটার এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং পাইপলাইন ধ্বংস করেছে। সহকারী কমিশনার ভূমি সামছুজ্জামান জানান, টপসয়েল রক্ষায় গত এক মাসে ১৫টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় ও ড্রেজার ধ্বংস করা হয়েছে এবং এই অভিযান চলবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন জানিয়েছেন, খবর পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সভা-সেমিনারের মাধ্যমে জনগণকে মাটি কাটার কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।








