?> ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ | সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News সীমান্তকণ্ঠ | Simanthokantho । ব্রেকিং নিউজ । সর্বশেষ খবর । আজকের খবর বাংলাদেশ । বাংলা নিউজ । Breaking News, Latest News, Bangladesh News
শেয়ার বাজার

ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: বৃহঃস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভুট্টার বীজ না কিনলে সার মিলছে না গাইবান্ধার ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

কৃষি ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিএডিসি ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের ও স্ত্রীর নামে দুটি ডিলারশিপ নিয়ে তিনি চালনা করছেন বলে জানা গেছে। চলতি ফসল চাষ মৌসুমে তাঁর দোকান থেকে ভুট্টার বীজ না কিনলে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না। এই শর্তের কারণে স্থানীয় শত শত কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ পেতে পারেন না এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন না। অথচ খায়রুল ইসলাম বেলকা ডিগ্রি কলেজে এবং তাঁর স্ত্রী বটতলা দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত থেকেও দুটি ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। মেসার্স খায়রুল ইসলাম ও মেসার্স রুফাইদা ট্রেডার্স নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সার নিতে গেলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ভুট্টার বীজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক বাবুল মণ্ডল ও শহিদুল ইসলাম জানান, তারা সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে ভুট্টার বীজ কেনার শর্ত দেওয়া হয় এবং বীজ না নেওয়ায় তাদের সার দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরেক কৃষক আবদুর রহিম মিয়া অভিযোগ করেন, ডিলার দম্পতি অনেক সময় সার আসার পরও না আসার ভান করেন এবং সারের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেন। এসব অনিয়ম রোধে কৃষকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিলার মো. খায়রুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কাছে কেউ সার নিতে আসেননি এবং তিনি নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই ডিলার কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে কৃষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে কৃষকদের

ঠাকুরগাঁওয়ের মাদারগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে ধারণক্ষমতার চেয়েও অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গুদামটির ধারণক্ষমতা দুই হাজার একশ টন হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় সাত হাজার টন সার রাখা হয়েছে। এর বাইরেও সারবোঝাই ৫৮টি ট্রাক গুদামের বাইরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে আছে। গুদামে এত সার থাকার পরও কৃষকদের চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

মাদারগঞ্জ বিএডিসি সার গুদামের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মো. রাহাত জানান, গুদামে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ডিলারদের মধ্যে বরাদ্দের বিভাজন না করায় গুদামের সামনের ট্রাকগুলো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম দাবি করেন, ডিলারদের কাছে আগের বরাদ্দের সার পর্যাপ্ত রয়েছে এবং তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

তবে কৃষি বিভাগের এই দাবির সঙ্গে মিল নেই ডিলার ও কৃষকদের বক্তব্যে। সদর উপজেলার ডিলার রাজিউর রহমান জানান, মাঠের চাহিদার তুলনায় তাদের বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। এদিকে সদর উপজেলার কৃষক মামুনুর রশীদ ও মনসুর আলী অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে তাদের সার কিনতে হচ্ছে। কৃষক ইউসুফ আলী জানান, চাহিদার তুলনায় সামান্য সার পেলেও বাকি সার কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঠাকুরগাঁও সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ জানান, একদিকে গুদাম ও ট্রাকে বিপুল পরিমাণ সার রয়েছে, অন্যদিকে মাঠে কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। সারের সামগ্রিক মজুতের চেয়ে কৃষকের হাতে সঠিক সময়ে ও সঠিক মূল্যে সার পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


গাইবান্ধায় অবৈধ সার উদ্ধারে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক অবরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গাইবান্ধায় অবৈধ সার উদ্ধারে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক অবরুদ্ধ

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি বন্দরে অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে বাধার মুখে পড়েন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি রাতে কামারজানি ইউনিয়নের এই বন্দরে কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে অভিযানটি চালানো হয়। গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ওই গুদাম থেকে ১৫০ বস্তা অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে গুদামে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সার মজুতের বৈধ কাগজপত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুদাম মালিকের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা অভিযان দলের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া পাঁচজন সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হন এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা সাংবাদিক ও কৃষি কর্মকর্তারা মুক্ত হন। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং আইনভঙ্গের দায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুস শাহাদত ফাইন জানান, সাময়িক এই গোলযোগের পর বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর জব্দকৃত ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার বাজোপ্ত করা হয় এবং অবৈধ মজুতদারের গুদামটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা ও অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


মজুরি নয় খড়ের বিনিময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে ধান কাটার উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

মজুরি নয় খড়ের বিনিময়ে ঠাকুরগাঁওয়ে চলছে ধান কাটার উৎসব

কৃষি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় আগাম আমন ধান কাটার মৌসুমে এক ব্যতিক্রমী বিনিময়প্রথা চালু হয়েছে। গবাদিপশুর খড়ের সংকট মেটাতে স্থানীয় অনেক কৃষক ও খামারি কোনো মজুরি ছাড়াই অন্যের জমির ধান কেটে দিচ্ছেন। এর বিনিময়ে তারা পারিশ্রমিক হিসেবে নগদ টাকার পরিবর্তে সম্পূর্ণ খড় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই উদ্যোগটি খড় উৎসব হিসেবে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার সময় হলেও এবার কিছু জমিতে আগাম জাতের ধান আগে পেকে গেছে। তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা বোরো মৌসুমের খড় ঠিকমতো শুকাতে পারেননি। অন্যদিকে বাজারে গোখাদ্যের দাম চড়া থাকায় গবাদিপশু পালনকারীরা চরম সংকটে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির কারণে আগাম পেকে যাওয়া জমির মালিক এবং খড়প্রত্যাশী কৃষকদের মধ্যে এই অভিনব বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।

ধান কাটতে আসা আইনুল হক ও কার্তিক বর্মণের মতো একাধিক গবাদিপশু মালিক জানান যে তাদের বাড়িতে গরু রয়েছে কিন্তু মজুত খড় ফুরিয়ে গেছে। বর্তমান বাজারে খড়ের দাম বেশি থাকায় বাড়তি খরচ এড়াতে তারা স্বেচ্ছায় অন্যের জমির ধান কেটে দিচ্ছেন। বিনিময়ে পাওয়া খড় দিয়ে তারা নিজেদের গবাদিপশুর খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত খড় বিক্রি করে সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন।

জমিওয়ালা কৃষকেরাও এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে জানা গেছে। কৃষক রেজাউল করিম ও তানজিনা বেগম জানান যে বিনা মজুরিতে শ্রমিকেরা ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে পৌঁছে দেওয়ায় তাদের হাজার হাজার টাকা শ্রমিকের খরচ বেঁচে গেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ে দশ লাখের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমছে তেমনি অন্যদিকে গোখাদ্যের সংকটও দূর হচ্ছে।