কৃষি ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিএডিসি ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের ও স্ত্রীর নামে দুটি ডিলারশিপ নিয়ে তিনি চালনা করছেন বলে জানা গেছে। চলতি ফসল চাষ মৌসুমে তাঁর দোকান থেকে ভুট্টার বীজ না কিনলে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে না। এই শর্তের কারণে স্থানীয় শত শত কৃষক চরম বিপাকে পড়েছেন এবং সরকারি সার বিতরণব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি সারের ডিলারশিপ পেতে পারেন না এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য ডিলার হতে পারবেন না। অথচ খায়রুল ইসলাম বেলকা ডিগ্রি কলেজে এবং তাঁর স্ত্রী বটতলা দাখিল মাদ্রাসায় কর্মরত থেকেও দুটি ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। মেসার্স খায়রুল ইসলাম ও মেসার্স রুফাইদা ট্রেডার্স নামের এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নিয়ম লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সার নিতে গেলে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে অতিরিক্ত মূল্যে ভুট্টার বীজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষক বাবুল মণ্ডল ও শহিদুল ইসলাম জানান, তারা সারের জন্য ডিলারের কাছে গেলে ভুট্টার বীজ কেনার শর্ত দেওয়া হয় এবং বীজ না নেওয়ায় তাদের সার দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরেক কৃষক আবদুর রহিম মিয়া অভিযোগ করেন, ডিলার দম্পতি অনেক সময় সার আসার পরও না আসার ভান করেন এবং সারের একটি অংশ বাইরে বিক্রি করে দেন। এসব অনিয়ম রোধে কৃষকরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ডিলার মো. খায়রুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর কাছে কেউ সার নিতে আসেননি এবং তিনি নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে দাবি করেন। এছাড়া স্বামী-স্ত্রী দুজনই ডিলার কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।








